বগুড়া সংবাদ ডট কম : স্বামীর স্বীকৃতী আদায় ও সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদ সমম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বগুড়া সদরের ধাওয়া পাড়া গ্রামের মোছা: ঝর্ণা বেগম। লিখিত বক্তব্যবে তিনি বলেন আজ থেকে প্রায় ৭ বছর পুর্বে ২০১০ সালে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকার মৃত সমরেশ এর পুত্র শ্রী সুমনের সাথে ধর্মীয় বধা উপেক্ষা করে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ঊঠে। একপর্যায়ে গত ২০১৪ সালে মুসলিম শরীয়াহ বিধানমতে উভয়ের সম্মতিতে ঢাকায় সুমনের এক আত্মীয়ের বাসায় স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর আমরা আমার বাবার বাড়িতে উভয়ে সুখে ঘর সংসার করিতে থাকি। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে সুমনের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। তাই আমার সংসারের কথা চিন্তা করে আমার বাব-মা গাবতলী শাখা হতে ৩০ হাজার টাকা ঋন তুলে সুমন ও তার পরিবারের হাতে টাকাটা তুলে দেয়। ফলে কিছুদিন সুমন নির্যাতনের মাত্রা কমে দেয়। এরই মধ্যে আমাদের কোল জুড়ে একটি পুত্র সন্তান জন্মলাভ করে। যার নাম হলো মোঃ সুরাত, বয়স প্রায় ২ বছরের কাছাকাছি। যেহেতু সুমন পুর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল সেহেতু হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করলে আরো বেশি পরিমান যৌতুক পাওয়া যাবে তাই সুমন তার মায়ের প্ররোচনায় আমাকে আমার বাবার বাড়ি থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। আমি যদি ৫০ হাজার টাকা এনে না দিই তাহলে সে মোটা অংকের যৌতুক নিয়ে হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করিবে বলে জানিয়ে দেয়। আমার দরিদ্র বাবা মায়ের পক্ষে আর কোন যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে দিলে সে আবারো আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এবং একপর্যায়ে সে আমাকে ফেলে রেখে সে তার নিজ বাড়িতে চলে যায় এবং আমার ও সন্তানের কোন দায় দায়িত্ব নিবে না মর্মে আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সে ও তার মা সাফ জানিয়ে দেয় যদি আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাও তাহলে আমার ও সন্তানের দায়িত্ব বহন করবে এবং বলে আইনে আমাদের কোন কিছুই করতে পারবে না। তার মা রুমা বেওয়া আরো বলে যে আমার ছেলেকে মোটা অংকের যৌতুক নিয়ে হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করাব। এবং ইতিমধ্যে নওগাঁ জেলায় আমার ছেলের বিবাহ ঠিক করেছি। এই ঘটনার পর আমি একাধিকবার আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় এবং আমার স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র এর নিকট গেলে আমাকে কোন সহযোগিতা না করে উল্টো সুমনের পক্ষ অবলম্বন করে। পরবর্তীতে আমাকে আপোষ মিমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে বলে তোকে কিছু টাকা নিয়ে দিচ্ছি তুই সুমনের পথ থেকে সড়ে দাড়া। আমি এর প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর পরিমল আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমার গলা চেপে ধরে বলে যে তুই খারাপ মেয়ে। আমি সুমনকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিব তুই মামলা করেও কিছু করতে পারবিনা। তাই বাধ্য হয়ে আমি বগুড়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকে কাউন্সিলর পরিমল এবং সুমন ও তার সহযোগিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি সহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। পরবর্তীতে আমি পরবর্তীতে গোপন সুত্রে জানতে পারি যে সুমনকে তার মা ও কাউন্সিলর পরিমল নওগাঁ জেলার একটি হিন্দু মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন যে, আপনাদের সত্য বলিষ্ঠ লেখনির মাধ্যমে সংবাদটি আপনাদের বহুল পত্র পত্রিকায় প্রকাশ করে আমার ও সন্তানের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন