বগুড়া সংবাদ ডট কম (আবু রায়হান, দুপচাঁচিয়া(বগুড়া)প্রতিনিধিঃপ্রেমিকের বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি ছাড়া এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গ্রাম্য সালিশ চেয়ে বিচার না পেয়ে ১৫দিন পর গতকাল শনিবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন ওই নারী। পুলিশ ধর্ষণের এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তালোড়া ইউনিয়নের গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ওরফে সাজু(২৮) ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নাজিম(২০)। ধর্ষণের শিকার ওই নারী উপজেলার তালোড়া রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষিতা ওই নারী উপজেলা সদরের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নার্সের কাজ করেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ের সঙ্গে একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে সোহান(২০) এর সঙ্গে প্রেম ভালোবাসা ছিল। সোহান তাঁকে বিয়ে করার জন্য গত ২৭ জুলাই বিকেলে উপজেলার আলতাফনগর বাজার থেকে ডেকে নেয়। তাঁকে বিয়ে করার জন্য কাজীর অফিসে নিয়ে যাবে এমন কথা বলে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। রাতে তালোড়ার দোগাছি গ্রামের মানিকগঞ্জ মাঠের নাখরাজ নামক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সোহান ও তাঁর তিন সহযোগী মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। ওই নারীর বাবা বিচার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। পরে গতকাল শনিবার সকালে থানায় এসে ওই নারী বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, ধর্ষণের পরও সোহান তাঁকে বিয়ে করবে বলে অভিযোগ দিতে দেয়নি। পরে সোহান মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় ওই নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত জাহেদুল ও নাজিম প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আসামীদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হবে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন