বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে বাড়ীর ছাদে আমন ধানের বীজ তলা তৈরী করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুন্দগ্রাম দক্ষিণ পাড়া কৃষক ক্লাব, আই,সিএম ক্লাব (এআইসিসি) বহুমূখী কার্যক্রম নামক সংগঠনের সদস্যরা। উপজেলার কুন্দগ্রাম দক্ষিণ পাড়া (ডিএই ড্যানিডা এগ্রিকালচারাল কম্পোনেন্টের উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগে ও উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ঘরের ছাদে এই ট্রে পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরী করে এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলেছে। ওই উদ্যোক্তারা বলেন, এ ব্যাবস্থার সুবিধা ও পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে রোপণ করলে প্রায় ২ মাস গাছ বাড়ার সময় পায় এবং প্রতিটি গাছ অনেক কুশি ছাড়ার সময় পেয়ে থাকে। এর ফলে ধানের ফলন অনেক বেশি হয় বলে তারা জানান। আর বাড়ির মেয়েরাও অবসর সময়ে এ বীজতলা তৈরি করতে পারে। তারা আরোও বলেন, শুধু মাত্র সকাল-দুপুর ও সন্ধ্যায় ৩ বার সময় করে পানি দিলেই চলে। এতে খরচ ও সময় কম। আবার খুব সহজে মেশিনের সাহায্যে ধান রোপণ করা যায়। চারা পুষ্ট হয় বলে গাছের বাইল শক্তিশালী হয়। ছড়ায় ধান বেশি আসে। সব মিলিয়ে এ পদ্ধতি কাজে লাগানো গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তারা জানান। এ পদ্ধতি কাজে লাগালে আমরা এলাকার সবাই অনেক লাভবান হব। তাছাড়া আমাদের এলাকা নিুাঞ্চল হওয়ায় একটু ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়ে বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। আর বাড়ীর ছাদে এসবের ভয় থাকে না।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নতুন এ প্রযুক্তি ব্যাপারে এলাকার কৃষকদের সর্বাত্বক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন চাষি এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তবে আস্তে আস্তে এর প্রসার ঘটবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ট্রের ওপর বীজতলা তৈরি করা হয়। ট্রের উপর আধা ইঞ্চি পুরু করে মাটি দিতে হয়। এরপর সামান্য গোবর সার দিয়ে ধান বীজ ছিটিয়ে দিলে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে চারাগুলো ৪-৫ ইঞ্চি বড় হয়। এ চারা রোপণ যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষেতে রোপণ করতে হয়। সাধারণত মাঠে বীজতলা তৈরি করলে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে বলেও এই কৃষি কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু বাড়ীর ছাদে নয় একই পদ্ধতিতে বাড়ির উঠানেও বীজতলা তৈরি করা যায়। তাছাড়া ইরি-আমন দুই মৌসুমেই বাড়ির ছাদে ও উঠানে ট্রে তে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন