বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : স্ত্রীর পরকিয়ায় সাবেক স্বামী সুজন কে সুকৌশলে হাত-পা বেঁধে স্বাস রোধে হত্যার ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ৩ জন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে বগুড়া আদালতে প্রেরন করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁর কির্ত্তিপুর গ্রামের কলিম উদ্দীনের ছেলে ও কির্ত্তিপুর ইউপি আতোয়ার রহমান বাচ্চু (৫০) কির্ত্তিপুর বাজারের মির বক্সের ছেলে জিয়ারুল হক জিয়া (৫০) কায়েব মন্ডলের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাজ্জাক (৪০)। ওসি আবু সায়িদ মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, সুজন হত্যার রহস্য মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন হয়েছে এবং ৩ জন আসামীকে শুক্রবার বগুড়া আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বিকারোক্তি প্রদান করে হত্যা কান্ডের লোম হর্ষক বর্ণনা দেন।
উল্লেখ্য, নওগাঁর সালোবাজ গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে গোলাম রব্বানি সুজনের স্ত্রী কীর্তিপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর সংরক্ষিত আসনের সদস্য উম্মে হাবিবা’ সাথে একই ইউপি সদস্য আতোয়ার রহমান বাচ্চুর পরকিয়া সর্ম্পক গড়ে উঠে। বিষয়টি সুজন জানার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। গত ১৭ জুলাই স্ত্রী হাবিবা তার স্বামী সুজন কে তালাক দেয়। সুজন, হাবিবার সাথে ঘড় সংসার করার সময় ৩ বিঘা জমি তার স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছিলেন। সেই জমি হাবিবা অন্য জায়গায় বিক্রয় করলে তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সুজন বাধা হয়। কৌশলে গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে সুজন কে আদমদীঘির সান্তাহার পশ্চিম লকো কলোনী স্ত্রী হাবিবার ভাই নাসিমের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে হাবিবার প্রেমিক বাচ্চু সহ তার সহযোগীরা মিলে সুজনের হাত পা বেধে স্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ীর বাহিরে ফেলে রাখে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩১ জুলাই আদমদীঘি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওসি আবু সায়িদ মোঃ ওয়াহেদুজ্জামানের নেত্বত্বে সান্তাহার টাউন ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি মুসা মিয়া, মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই তহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নওগাঁর বদলগাছী ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে এই তিন আসামীকে গ্রেফতার করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন