বগুড়া সংবাদ ডট কম (ফিরোজ কামাল ফারুক, নন্দীগ্রাম) : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নাগর নদের পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া প্রবল স্রোতে নাগর নদ-সংলগ্ন একটি খালের পাড় ভেঙ্গে গেছে। এতে উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ও ভাটরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ১৩ টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ও ভাটরা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নাগর নদ। দীর্ঘদিন ধরে এ নদ খনন করা হয়নি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দুই কুল উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের একটি স্থানে নাগর নদ থেকে শাখা বেরিয়াছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দৈয়নার খাল নমে পরিচিত। এই খালের উৎসবমুখে সরকারি উদ্যোগে একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়েছে। নাগর নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈয়নার খালে পানির চাপ বেড়েছে।
থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, উৎসব শুখের আনুমানিক ২০০ গজ অদূরে দৈয়নার খালের পাড় ১৫ থেকে ২০ হাত ধসে যায়। এতে লোকালয়ে পানি ঢোকে। কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পাকা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানির স্রোতে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষিদের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমনের চারা ও শাকসবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পারশুন, গুলিয়া, বিষ্ণপুর, পারঘাটা, গোপালপুর গ্রামে।
খালের পাড় ধসে পানি ঢুকে পড়েছে ভাটরা ইউনিয়নের দমদমা, চাতরাগাড়ী, পার-নাগরকান্দি, নাগরকান্দি, কালিয়াগাড়ী, রুস্তমপুর, মূলকুড়ি, ডোহাবাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। দমদমা, নাগরকন্দি, বৃষ্ণপুর, কালিয়াগাড়ী, চাতরাগাড়ী, উমাপতিদীঘি, পার-নাগরকান্দি সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের দুইু পাশে নালা ও খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ এবং বেখল হওয়ায় দ্রুত পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ভাটরা ইউনিয়নের বামনগ্রাম, মির্জাপুর, সিমলা, নামুইট, মারিয়া, ভাগবজরসহ বিভিন্ন মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ভাটরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান মাছুম বলেন, তার ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পাকা ও মাটির রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পানির নিচে আমন ধান ও বীজতলা। দমদমা গ্রামের পানিবন্দি নাসরিন বেগম, মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অনেকে জানান, এখন বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আমাদের কেউ কোন খোজখবর নেয় না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক বলেন, কৃষকদের প্রায় প্রায় ২০০ হেক্টর (১৮৭৫বিঘা) জমির আমন চারা তলিয়ে গেছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন