বগুড়া সংবাদ ডট কম ( রশিদুর রহমান রানা,শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ মরণ নেশা মাদকের বিরুদ্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসন সাড়াশি অভিযান সহ জনসচেতনা মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই মহুর্তে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের নান্দুড়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় দিনে দুপুরে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নেশা গ্রস্থ ট্যাবলেট সেবনে এলাকাবাসি সহ অভিভাবকরা আতঙ্কে পড়েছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায় মঙ্গলবার নান্দুড়া মাদ্রাসায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা নামাজ পড়তে যায় ঠিক সেই সময় কমন রুমে ঐ মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত নেশা গ্রস্থ ট্যাবলেট খেয়ে মাতলামি শুরু করলে তার সহ পাঠিরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি তারা তাৎক্ষনিক দপ্তরীকে অবগত করলে দপ্তরি শিক্ষকদের জানায় শিক্ষকেরা নামাজ শেষে এসে এরকম অবস্থা দেখে সাথে সাথে তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ডাক্তারের কাছে পাঠায়।

নেশা গ্রস্থ শিক্ষার্থী সবাই ঐ মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানাযায়। তারা হলেন নান্দুড়া গ্রামের কামরুজ্জামান এর সাইফা হাসান, মোফাজ্জলের মেয়ে ফেরদৌসি, খলিলুর রহমান এর মেয়ে ছামছুন্নাহার। তাদের এই নেশা গ্রস্থ ট্যাবলেট সরবরাহ করে তাদের সহপাঠি মোছাদ্দেক হোসেন এর ছেলে নাইম। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন নাইম ম্দারাসায় খুব কম আসে এবং আসলে মেয়েদের কে সব সময় বাজে মন্তব্য করে।

এব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার আ.আ.ম মানরুওলিব ঘটনাটির কিছুটা সত্যতা স্বিকার করে বলেন যে, তারা নেশা গ্রস্থ ট্যাবলেট নয় তাদের সহপাঠিদ্বারা নিয়ে আসা ঘুমের ইজিএম ট্যাবলেট সেবন করেছে। আমরা অভিভাবকদের ডেকেছি, এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। নেশা গ্রস্থ ছাত্রী ছামছুন ন্নাহার এর পিতা খলিলুর রহমান এর সাথে কথা বললে সে জানায়, আমার মেয়ে এখন অচেতন অবস্থায় আছে একবার জ্ঞান ফিরলে সে আমাকে জানায় মাথার চুল বৃদ্ধি এবং সুন্দরর্য হবে এমন কথা বলে তাদের সহপাঠি একটি ট্যাবলেট জুসের সাথে মিশিয়ে সেবন করায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে বুধবার সকলে সুপার অভিভবাক সহ সকলে ডেকে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এমন কথা বলে তাদের অসুস্থর যাবতীয় খরচ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদান করা হবে বলে মিসাংসা করে দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন এরকম কোন ঘটনা যদি ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠান থেকে আটমুল ইউনিয়ন থেকে অনেকটা গ্রামের অবস্থিত। এই ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসি ও অভিভাবকরা তাদের ছেলে এবং মেয়েদের ম্দারাসায় পাঠাতে অনেকটা ভয় করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করে মাদ্রাসার লেখা পড়ার পরিবেশ ফিরে আনার আহব্বান করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন