বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া শাজাহানপুরের গোহাইল ইসলামীয়া স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পুনঃতদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১২ টা থেকে ১টা পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা নঁওগা জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম মোসলেম উদ্দিন এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন নঁওগা জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক আবু সাইদ।
পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন অসংলগ্ন ও মিথ্যাচারপূর্ণ অভিযোগ এনে শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী পুনঃতদন্তের জন্য গত ৪ জুলাই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা নঁওগা জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম মোসলেম উদ্দিন জানান, গোহাইল ইসলামীয়া স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পুনঃতদন্ত চেয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান বরাবর আবেদন করেন আলী ইমাম ইনোকী। আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক তাকে এই তদন্তভার প্রদান করেন। তদন্তকালে তিনি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল মোতাহার আলী মুকুল ও আলী ইমাম ইনোকীর নিকট থেকে লিখিত বক্তব্য নেয়ার পাশাপাশি সংশ্লীষ্ট বিষয়াদীর খুটি-নাটি তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন যথা সময়ে দপ্তরে জমা দেয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুনঃতদন্ত আবেদনকারী উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী জানান, গত ২১ এপ্রিল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রিন্সিপ্যালের নিকট লিখিত আবেদন জানান তিনি। কিন্তু অধ্যক্ষ মোতাহার আলী মুকুল আবেদন গ্রহন করেও তার নাম বাদ রেখে ২২ এপ্রিল সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষাবোর্ডে ৩জন আন্ডার মেট্রিক ব্যক্তির নাম জমা দেন। এমতাবস্থায় ২৩ এপ্রিল মশিউর রহমান শিপলু নামে বগুড়ার নন্দিগ্রাম গার্লস স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক সভাপতি মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ এনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শিক্ষাবোর্ড শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তভার অর্পণ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রায় দেড় মাস পূর্বে কৃষি কর্মকর্তা তার মনগড়া ভাবে অসংলগ্ন ও মিথ্যাচারপূর্ণ একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেই অসংলগ্ন ও মিথ্যাচারপূর্ণ তদন্তের পুনঃতদন্তের জন্য ৪ জুলাই শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান বরাবর পুনরায় আবেদন জানানো হয়। এমতাবস্থায় শিক্ষাবোর্ড ১২ জুলাই একই তারিখে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সভাপতি মনোনয়নের অনুমোদনও প্রদান করে। তিনি অরো জানান, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একজন আন্ডার মেট্রিক ব্যক্তিকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মেনে নেয়া যায় না।
কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার আলী মুকুল জানান, নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই একজন সফল জনপ্রতিনিধি ৫ বারের ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুকে সভাপতি মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ১২ জুলাই বোর্ড তা অনুমোদন দিয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সুষ্ঠ তদন্ত হলেই তা প্রামানিত হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন