বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে বিলাল হোসেন (৪৫) নামে এক গ্রাম পুলিশকে মারপিট সহ বসতবাড়ি ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এঘটনায় বিলাল হোসেনের স্ত্রী মেরিনা বেগম বাদি হয়ে ৭ জনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে থানার এসআই জাহাঙ্গীর কবির রোববার দুপুরে উপজেলা রেজিস্ট্রী অফিসের সামনে থেকে মুক্তার হোসেন (২৮) নামে এক বিবাদীকে আটক করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলার বিহিগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত আজাহার আলী বাচ্চুর পুত্র চোপীনগর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বিলাল হোসেনের (৪৫) ৩ বছর বয়সী শিশু কন্যার সাথে বিহিগ্রাম সোনারপাড়ার মৃত সাই্দুর রহমানের পুত্র সোহেল হোসেনের (২৬) ৪ বছর বয়সী শিশু পুত্রের খেলাধুলা নিয়ে দ্বন্দের জের ধরে মহিলাদের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সন্ধার সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অনধিকার ভাবে বিলাল হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে বিলাল হোসেনের স্ত্রীর মেরিনা বেগমের (৩৫) সাথে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাকে মারপিট করতে থাকে। চিৎকারে মেরিনা বেগমের স্বামী বিলাল হোসেন, মেয়ে মারজিয়া ও দেবর মোক্তার হোসেন এগিয়ে এলে তাদেরকেও এলোপাথারি ভাবে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে ধারালো দা’য়ের কোপে বিলাল হোসেনের মাথার বাম পার্শ্বে গুরুতর কাটা জখম হয়। এছাড়াও দেবর মোক্তার হোসেনের পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ঘরের জানালা ও টিনের বেড়া ভাংচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিলাল হোসেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীর রয়েছেন। এঘটনায় বিলাল হোসেনের স্ত্রী মেরিনা বেগম বাদি হয়ে বিহিগ্রাম সোনারাপাড়ার আবু তালেবের দু’পুত্র আব্দুল বাকি (৪৫), মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৮), নাতী মোক্তার হোসেন (২৮), বাচ্চু মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (৩০), মৃত সাইদুর রহমানের পুত্র সোহেল (২৬), সোহেল হোসেনের স্ত্রী মনিকা বেগম (২০), আব্দুল বাকির স্ত্রী মুনজু বেগম (৩৫) কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বিলাল হোসেনের ছোটভাই মোক্তার হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে রোববার থানার এসআই জাহাঙ্গীর কবির রোববার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা রেজিস্ট্রী অফিসের সামনে থেকে মুক্তার হোসেন (২৮) নামে এক বিবাদীকে আটক করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এমরান হোসেন জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথে ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি আহত গ্রাম পুলিশ বিলাল হোসেনের খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে।
এঘটনায় থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আটক ব্যক্তির নাম পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে নাম পরিচয় সংগ্রহ করতে বলেন।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী থানার এসআই জাহাঙ্গীর কবির আটক ব্যক্তির নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই জাহাঙ্গীর কবির জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন