বগুড়া সংবাদ ডট কম (জিয়াউর রহমান,শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে অপহরণের পর শিশু রাকিবুল হাসান রিফাত (৮) হত্যার রহস্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, মামলার ৪ দিনের মাথায় শিশু রিফাত হত্যার রহস্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ১১ জন আসামীর মধ্যে ১০ জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, খাদাস ভোলাগাড়ি গ্রামের আলতাফ ডাকাতের পুত্র আবুল কালাম আজাদ (২৮), খাদাস মাঠপাড়ার মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র রাজু মিয়া @ পাঁচফুল (৩৬),

তালুকদার পাাড়ার অজিজুল হকের পুত্র সজিব হাসান (১৯), মিলন মিয়ার পুত্র মেহেদী হাসান (১৯), মিলন হোসেনের পুত্র সেলিম রেজা (২০), বাবলু মিয়ার পুত্র বায়োজিদ হোসেন (১৫), হাটখোলা পাড়ার বাচ্চু মিয়ার পুত্র মফিজুল ইসলাম (২০), রাজবাড়ি পাড়ার দুলাল হকের পুত্র জাহিদ হাসান (১৭), স্কুলপাড়ার নূর নবীর পুত্র বোরহান আলী (১৪), জহুরুল ইসলামের পুত্র মাসুদ রানা (১৯)। সাগর (১৮) নামে অপর এক আসামীকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সজিব হাসান ও মফিজুল ইসলাম রোববার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট শ্যাম সুন্দরের নিকট স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

তারা জবানবন্দিতে জানায়, শিশু রিফাতের বাবা এনামুল হকের নিকট থেকে আবুল কালাম আজাদ বেশ কিছু দিন ধরে টাকা ধার চেয়ে আসছিল। ঘটনার সপ্তাহ খানেক পূর্বে পুনরায় ১ লক্ষ টাকা ধার চায় কালাম। টাকা ধার দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং এনামুলের ছেলেকে অপহরন করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে কালাম।

সে মোতাবেক ১১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় খাদাস স্কুল মাঠে এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের হ্যাচারীর নিকট দু’দফায় কালাম তার সহযোগীদের ডেকে অপহরণ ও ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ জুলাই দুপুর ২ টায় কালাম আবারো এনামুলের নিকট ১ লক্ষ টাকা ধার চায়।

ধার না পেয়ে একই দিন সন্ধায় শিশু রিফাত খাদাস বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কালাম তার সহযোগী রাজু মিয়া @ পাচফুল, সাগর মিয়া, মেহেদী হাসান পাখি ধরার কথা বলে কৌশলে রিফাতকে অপর সহযোগী সজীব হাসানের অটোরিক্রায় উঠিয়ে সিংহবাড়ি ব্রীজের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে অপর সহযোগীরা অটোরিক্রায় উঠে বসে। সিংহবাড়ি ব্রীজের নিকটে পৌছে পাখি ধরার কথা বলে রিফাতকে ব্রীজের নীচে নিয়ে যেতে ধরলে রিফাত ভয়ে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে ব্রীজের নীচে ভদ্রাবতী নদীর পানীতে ফেলে কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে রাখে।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে ১ম শ্রেণীর ছাত্র শিশু রিফাত (৮) কে অপহরন করা হয়। অপহরনের পরের দিন সকালে রিফাতের বাবার কাছে ফোনে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে অপহরণকারীরা। রিফাতের বাবা এনামুল হক মুক্তিপনের টাকা না দিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর থেকে থানা পুলিশ শিশু রিফাত কে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

এমতাবস্থায় ১৮ জুলাই সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে জনৈক এক কৃষক ব্রিজের নিচে শিশু রিফাতের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ সকাল ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেমের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এঘটনায় রিফাতের বাবা মুদি দোকানদার এনামুল হক বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন