বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক) : বর্ষার ভরা মৌসুমেও আশানুরুপ বৃষ্টি নেই। ফলে বৃষ্টির পানির অভাবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আমন চাষীদের সেচপাম্পের পানিই এখন একমাত্র ভরসা। আমন চাষের আশায় জমি তৈরি করে বৃষ্টির পানিতে চারা রোপণের আশায় থাকলেও কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি নেই। ফলে এখন গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দিয়ে আমন চারা রোপন করতে বাধ্য হচ্ছে উপজেলার কৃষকরা। এতে করে শুরুতেই আমন চাষের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কৃষকদের।
এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ কাংখিত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চারা রোপণ ব্যাহত এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আশা প্রকাশ করছে যে শ্রাবণের শেষ নাগাদ বৃষ্টি হলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, জমিতে হাল চাষ দেওয়ার মতো পানি না থাকায় কৃষকরা সেচ পাম্প থেকে পানি নিয়ে জমি তৈরি করছেন। উপজেলার তৈয়বপুর গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান জানান, আষাঢ় মাস থেকে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেছে সবাই। কিন্তু এপর্যন্ত জমিতে হাল চাষ দেওয়ার মতো পানি জমেনি। ফলে বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন (অগভীর নলকূপ) থেকে পানি সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে বাধ্য হচ্ছে সকলেই। জমিতে একবার পানি দেওয়ার জন্য বিঘা প্রতি পাম্প মালিককে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। যা বাড়তি খরচ। বেড়ে যাচ্ছে চাষের ব্যয়। গোপালপুর গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বলেন, ‘আর কত্যোদিন বিষ্টির জন্য বসে থাকব্যার কচ্ছেন। বিছন(চারা) তো গ্যাট লাগে যাচ্ছে (রোপন অযোগ্য)। তাই পাম্পের পানি দিয়েই বিছন লাগান শুরু করছি।’
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হলে আমন চারা রোপন করা খুবই কষ্টের হবে। সেচের পানি জমিতে ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ আশপাশের জমি শুকনো থাকলে যে জমিতে পানি সেচ দিয়ে চাষ করা হবে তার পানি পার্শ্ববর্তী জমি শোষণ করে নিবে। ফলে কৃষকদের নিয়মিত জমি সেচ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হবে। ইতোমধ্যেই অনেক জমিতে চারা লাগানোর পর সেচ না দেওয়ায় কারণে সেসব জমির মাটি শুকিয়ে চৌচির হতে(ফেটে যাওয়া) শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক বলেন, কৃষকরা সেচ দিয়ে হলেও যেন চারা রোপন শুরু করে সেজন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শ্রাবণের শেষ নাগাদ বৃষ্টি হলে আমন চাষে আর কোন সমস্যা থাকবে না ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন