বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় টার্কি মুরগি পালন করে লোকশানের মুখে পড়ে খামারীরা এখন সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। এক দিকে খাদ্যের মূল্য উর্দ্ধগতি অন্য দিকে রানীক্ষেত, বার্ডফ্লু সহ নানা রোগে আক্রন্ত হয়ে মুরগি মারা যাওয়া এবং বাজারমূল্য নিম্নমুখি হওয়ায় খামারীদের লাখ লাখ টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে।
জানাগেছে, ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ টার্কি মুরগির খামার রয়েছে। এসব খামারে অনেক বানিজ্যিকভাবে ও সৌখিনভাবে টার্কি পালন করছে। গত এক বছর আগে টার্কি মুরগি ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এলাকার বেকার যুবকেরা টার্কি মুরগি পালনে ঝুঁকে পড়ে।
চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের রুদ্রবাড়ীয়া গ্রামের টার্কি মুরগির খামারী ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, তিনি এক বছর আগে ৫০টি মুরগী পালন শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ৫০০ থেকে ৬০০ এবং মুরগির মাংস ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। সেই সময়ে ব্যাপক লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে তার খামারে এখন প্রায় ৩ শতাধিক মুরগী রয়েছে। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে টার্কির বিভিন্ন রোগবালাই ও খাদ্য মূল্যের উর্দ্ধগতি এবং টার্কির মাংস ও ডিমের দাম কমে যাওয়ায় এখন তার খামার ধরে রাখাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, তার খামার দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবকই টার্কি পালন করে লোকশানের মুখে পড়ে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে।
মাঠপাড়া গ্রামের আরেক খামারী আব্দুল লতিফ জানান, গত ৪ মাস আগে প্রতি জোড়া ৮০০ টাকা মুল্যে ৯৪ জোড়া টারর্কি মুরগীর বাচ্চা ক্রয় করে খামার শুরু করেন। খামার শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত খাদ্য, রোগবালাইয়ের ঔষুধ ও পরিচর্চা বাবদ ৩ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু গত দুইদিন আগে রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়ে খামারের সব মুরগী একসাথে মারা গেছে। এতে পুঁজি হারিয়ে এখন সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, এক সময় টার্কি পালন লাভজনক হওয়ায় অনেকেই খামার গড়ে তুলেছেন। একারনে বর্তমানে টার্কির দাম অনেক কমে গেছে। এছাড়া খাদ্যের মূল্য উর্দ্ধগতি হওয়ায় অনেক খামারীকে লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া টার্কির সাধারনত রোগবালাই কম হয়। তবে বদ্ধ ঘরে টার্কি পালন করলে বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ার সম্ভবনা থাকে। অনেকেই টার্কিকে শুধু ফিড খাদ্য খাওয়ায়। এতে হঠাৎ করেই মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ে। তাই ফিড খাওয়ানোর পাশাপাশি ঘাস ও লতাপাতা খাওয়ানো এবং খোলা জায়গায় ছেড়ে দিয়ে পালন করলে রোগবালাই অনেকটাই কমে আসবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন