বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট হাসপাতাল থেকে আহত রোগীকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ৯জনকে আটক করেছে। রবিবার সকাল ১১টায় ধুনট থানার প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী প্রামানিক পাড়া গ্রামের ফজর আলীর সাথে প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ফজর আলী তার বাড়ীর সীমানায় একটি নলকুপ স্থাপন করে। কিন্তু আনোয়ার হোসেন নলকুপ বসানো জায়গাটি তার দাবী করলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এবিষয়ে ফজর আলী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার প্রার্থী হয়। এতে আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগিদের নিয়ে বিকাল ৫টায় ফজর আলীর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করতে থাকে। এসময় বাধা দিতে গেলে ফজর আলী ও তার স্ত্রী অবিরন খাতুনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ধুনট হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ফজর আলীর ভাই নবির হোসেন বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন সহ তার সহযোগিদের নামে ধুনট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ফজর আলীর চাচা মোহাম্মদ আলী জানান, থানা পুলিশ নবির হোসেনের অভিযোগটি আমলে না নিয়ে আনোয়ার হোসেনের মিথ্যা অভিযোগটি শনিবার রাতে মামলা হিসাবে রেকর্ড করে হাসপাতাল থেকে অসুস্থ ফজর আলীকে গ্রেফতার করেছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে দুই শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে রবিবার সকাল ১০টার দিকে ধুনট থানার সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসময় পুলিশ এলাঙ্গী প্রামানিক পাড়ার গোলাম সরওয়ার, আব্দুল মান্নান, আবু হানিফ, জান মিয়া, নাজমুল, শামসুল, নবির হোসেন ও শিরিনা খাতুন ও সেফালী খাতুনকে আটক করে। পরে পুলিশ আনোয়ার হোসেনের মামলায় আটককৃত নবির হোসেন, আব্দুল মান্নান ও আবু হানিফকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরন করেছে এবং অন্যদেরকে ছেড়ে দিয়েছে।

এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ তারেক হেলাল বলেন, থানা পুলিশ ফজর আলীর মামলা রেকর্ড না করে উল্টো আনোয়ার হোসেনের মামলা তদন্ত ছাড়াই রেকর্ড করার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ৯জনকে আটক করে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো: এরফান জানান, আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় আনোয়ারের ছেলে আল্লামা ইকবাল জিহাদ বাদী হয়ে ফজর আলী ও তার ভাই নবির হোসেন সহ ৫ জনকে আসামী করে ধুনট থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগটি তদন্ত করে থানায় মামলা রেকর্ডের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে ফজর আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু ফজর আলীর লোকজন মিছিল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিল থেকে মামলার এজাহারভুক্ত অপর তিন আসামীকে গ্রেফতার করা করেছে। তবে ফজর আলী ও তার স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগটিও তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন