বগুড়া সংবাদ ডট কম (মহাস্থান প্রতিনিধি এস আই সুমন) : বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা করে সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলো বগুড়া সদরের গোকুলের পলাশবাড়ী গ্রামের দাদীর কাছে লালিত পালিত হওয়া রিম্পা খাতুন (১২)। জানা গেছে, বগুড়া সদরের পলাশবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের রুবেল হোসেনের মেয়ে রিম্পা(১২) এবার পিএসসি পরীক্ষায় পাস করে। তার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার কথা। অভাবেন সংসার, ধার দেনার দায়ে তার বাবা মা বাড়ী ছেড়ে তাকে তার দাদী রুপিয়ার কাছে রেখে ঢাকায় চলে যায়। দাদী মহাস্থানের একটি রেষ্টুরেন্টে ঝি এর এর কাজ করে কোন মতে নাতনী রুম্পাকে নিয়ে সংসার চালায়। তার বোঝা বইতে না পেরে গত মাসে তাকে তার দাদী বিবাহ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সংবাদ গোকুল ইউপি চেয়ারম্যান সওকাদুল ইসলাম সরকার সবুজ জানতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমানের সহযোগীতায় রিম্পার বিবাহ বন্ধ করে দেন এবং তার থাকার জন্য বাড়ী নির্মাণ সহ পড়ালেখার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে রিম্পাকে গোকুল তমিরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে বই হাতে তুলে দিয়ে স্কুলের পোষাক সহ সকল ব্যবস্থা গ্রহন করেন ইউপি চেয়ারম্যান। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দারিদ্রতার কোষাঘাতে কারো লেখাপড়া যাতে বন্ধ হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান স্থানীয় প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা সহ সমাজের সচেতন মানুষকে নির্দেশ দেন। রিম্পার লেখাপড়া করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য যার সবচেয়ে বেশী অবদান, তিনি হলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, গোকুল ইউপি চেয়ারম্যান সওকাদুল ইসলাম সরকার সবুজ, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য ছালামত আলী, এমদাদুল হক দুলাল, সাজেদুল ইসলাম সুজন, নজমল হোসেন মজো, তহমিনা বেগম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম সোবহান সবুজ, সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান,মহাস্থান প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান সাজু,সাধারন সম্পাদক এস আই সুমন, আবু বক্কর সিদ্দিক,নরেশ চন্দ্র, আক্তার বানু, পলি, সাবিনা ইয়াসমিন,মুসফিকুর রহমান উজ্জল সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা মন্ডলী।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন