bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটে এক প্রভাষক ও নারী বিউটিশিয়ানকে জনসম্মূখে মারধরের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ্ সহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার শারমিন আকতার নামের এক বিউটিশিয়ান বাদী হয়ে বগুড়ার ২নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
মামলা ও স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার বাকশাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে লিটন মিয়ার সাথে ২০০৮ সালে চান্দারপাড়া গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শারমিন আকতার ছবির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে লুবনাফাতিন (৭) নামের এক কণ্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু লিটন মিয়া দীর্ঘ ৬ বছর যাবত প্রবাসে থাকায় এবং ভরনপোষন না দেওয়ায় শারমিন আকতার তিন মাস আগে তাকে ডিভোর্স দেয়। জীবিকার তাগিদে শারমিন আকতার পৌর এলাকার অফিসারপাড়া এলাকায় সাথি বিউটি পার্লারের ব্যবসা করছে। সেই সুবাধে তিনি ওই এলাকার একটি ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া থাকে। গত ৪ সেপ্টেম্বর লিটন মিয়ার ছোট ভাই গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম ধুনট অফিসারপাড়া এলাকায় শারমিন আকতারের ভাড়া বাসা থেকে সব আসবাবপত্র হেটে হেচড়ে বের করার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে রফিকুল ইসলাম তাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। পরে শারমিন আকতারের চাচাতো ভাই আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবু সালাম তুহিন ও তার ভাই তুষার ঘটনাস্থালে পৌছালে সে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে পৌর মেয়রকে সংবাদ দেয়। তবে পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ ঘটনাস্থলে পৌছে উভয়পক্ষের কথা শোনার আগেই তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রভাষক তুহিন ও তার ভাই তুষারকে মারধর করতে থাকেন। এসময় বাধা দিলে বিউটিশিয়ান শারমিন আকতারকে রাস্তার ওপরই জনসম্মূখে মারধর করে মেয়র ও তার লোকজন। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে ধুনট থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় সোমবার শারমিন আকতার বাদী হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে ১নং আসামী, পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহে ২নং আসামী ও আব্দুল মান্নানকে ৩নং আসামী করে বগুড়ার ২নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৪০/২০১৭ (ধুনট)।
বাদীপক্ষের আইনজীবি এ্যাড. আব্দুল হামিদ মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বগুড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টটিকেশনকে (পিপিআই) দায়িত্ব দিয়েছে। #

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন