বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি  ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনার চরাঞ্চলের কৃষক এখন মুগ ডাল চাষে ঝুঁকে পড়েছে। কম খরচে চাষবাদ হওয়ায় এবং অধিক দাম পাওয়ায় অনেক কৃষকই মুগ ডাল চাষাবাদ শুরু করেছেন। কয়েক বছর আগেও এ চরাঞ্চলে মুগ ডালের চাষ হতো না।
সরেজমিনে ধুনট উপজেলার বৈশাখী চরে গিয়ে পাকা মুগ ডাল শোভা পাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। কোন কোন কৃষক চাষাবাদ করা এসব মুগ ডাল ঘরে তুলতে শুরু করেছে। ইরি-বোরো ধান কাটার পরই এবং পতিত ঘাসের জমিতে এসব মুড ডালের চাষবাদ শুরু করেছে অনেক কৃষক।
বৈশাখী চরের চাঁন মিয়া জানান, কয়েক বছর আগেও যমুনার চরাঞ্চলে মুগ ডালের চাষ হতো না। কিন্তু বর্তমানে এই ডালের চাষ বেড়েই চলেছে। অনেকটা বিনা খরচেই মুগ ডালের চাষ করা যায়। চাহিদা ও দামও বেশি পাওয়া যায়। তাই কৃষকরা এখন মুগ ডাল চাষকে লাভজনক মনে করে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি নিজেও এক বিঘা জমিতে মুগ ডালের চাষ করেছে। প্রতি মন ডাল সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি করা যায় বলে জানান তিনি।
ওই চরের আরেক বাসিন্দা আজগর আলী জানান, মুগ ডাল বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। পাইকাররা কৃষকদের বাড়ী বাড়ী থেকে মুগ ডাল কিনে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, মুগ ডাল চাষ করতে কোন ঝামেলা নেই। চরের মাটি উর্বর। তাই পতিত জমি কিংবা ঘাসের মধ্যে ছিটিয়ে দিলেই ফলন হয়। এছাড়া বালি মাটিতেও মুগ ডাল চাষ করা যায়। এজন্য জমিতে কোন নিড়ানি বা রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। বীজ ছিটিয়ে দেওয়ার পর পাকলে ঘরে তোলা হয়।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে মুগ ডালের চাষ করা যায়। চলতি বছরে চরের ৫ হেক্টর জমিতে মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে। তবে শীতকালে মুগ ডালের ফলন ভাল হওয়ায় চরের আরো বেশি জমিতে চাষাবাদ করে কৃষক। নব্বই দিনেই মুগ ডাল ঘরে তোলা যায়। সাধারনত ধান কাটার পর পরই ওইসব জমিতে মুগ ডালের চাষ করা হয়ে থাকে। চরের পলি জমিতে মুগ ডালের চাষ ভাল হয়। ধানী জমিতে মুগ ডাল চাষ করলে ওই জমির উর্বরতা বাড়ে। প্রতি হেক্টরে ১.০৫ মেট্রিক টন ডাল উৎপাদন করা সম্ভব। তাই চরাঞ্চলের জমিগুলোতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে মুগ ডালের চাল করা হলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষনও দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন