বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) :পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিস্কার করায় বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত ও অফিস কক্ষ ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এজাজুল হক বাদি হয়ে এজাহার নামীয় ৭ জন সহ অজ্ঞাত নামা আরও ১০-১২ জনের নামে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পরই সোহেল (২৫) এবং অনিক (২১) নামে এজাহারভুক্ত ২ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। অপরদিকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজ শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহা সহ জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিফুর রহমান শাওন ও ছাত্রলীগ কর্মী দেলোয়ার হোসেন সোহেলকে সাময়িক বহি:স্কার করেছে কেন্দ্রিয় কমিটি। বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস বহি:স্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশী টহল জোরদার করায় পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেঁেজর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এজাজুল হক।
অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এজাজুল হক জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই যথারীতি কলেজের সকল একাডেমি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কলেজে ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখন স্বাভাবিক। তবে ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতা-কর্মি সোমবার রাত ১১টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত তার বাসায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম এবং কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিছুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস এবং ভাংচুরকৃত কক্ষ পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগষ্ট দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে নকল করার দায়ে একজন শিক্ষিকা জোবায়ের হাসান জয় নামের এক শিক্ষার্থী (ছাত্রলীগ কর্মী)’র খাতা কেড়ে নেন। পরদিন ওই ছাত্র উক্ত শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে অফিস থেকে বাইরে আসতে বলে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রের ডাকে সাড়া না দিয়ে ওই শিক্ষিকা এড়িয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সোমবার ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে এসে শিক্ষার্থী জয় আবারও এক শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করে। বিষয়টি জানার পর কলেজের অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে পরিক্ষার হল থেকে বহি:স্কার করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত ও কলেজের অফিস কক্ষ এবং অধ্যক্ষের কক্ষে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এজাজুল হক বাদি হয়ে এজাহার নামীয় ৭ জন সহ অজ্ঞাত নামা আরও ১০-১২ জনের নামে সোমবার শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পরই থানা পুলিশ সোহেল (২৫) এবং অনিক (২১) নামে এজাহারভুক্ত ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সরকারি শাহসুলতান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আইসিটি ল্যাবের জন্য ৩’শ টাকা করে নিচ্ছেন। আমরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি।
থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই ২ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন