বগুড়া সংবাদ ডট কম ( সাগর খান, আদমদীঘি প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় প্রায় এক ঘন্টা আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাছল বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার সন্ধায় এই পাথর নিক্ষেপে’র ঘটনাটি ঘটায় আরেফিন আরা লিন্ডা (২৮) নামের এক নারী। সে সান্তাহার পৌরসভা এলাকার একজন দাঁতের চিকিৎসক (ডিপ্লোমাধারী) এবং গ্রামের বাড়ি পৌর এলাকার পৌওতা গ্রামে। ঘটনার পর ট্রেন চালক ও পরিচালক ট্রেন চালাতে না চাইলে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে প্রায় এক ঘন্টা আটকা পড়ে। এতে যাত্রারা বিড়ম্বনায় পড়েন। পরে রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায় ।

সান্তাহার জংশন ষ্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিম ট্রেন চালকের বরাত দিয়ে জানান, খুলনা থেকে চিলাহাটি গামী ৭২৭ নম্বর (আপ) আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সন্ধা পৌনে সাত’টার দিকে সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে প্রবেশ করে। ট্রেনটির ষ্টেশনে দাড়ানো অবস্থায় আরেফিন আরা লিন্ডা একটি ব্যাগ পার্বতীপুর ষ্টেশনে পৌছে দেয়ার জন্য ট্রেন চালক মহিদুল ইসলাম বলেন।

চালক মহিদুল ইসলাম কোন অচেনা ব্যাক্তির ব্যাগ গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করলে আরেফিন আরা লিন্ডা লাফিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠে পড়েন এবং চালকের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করেন। এক পর্যায়ে সে চালকের আসনের সামনে গিয়ে দাড়ান এবং পরে ইঞ্জিন থেকে নেমে চালকের দিকে অবিরাম পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় চালক ইঞ্জিনের জানালা বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ট্রেনের চালক স্বদেশ রায়, ট্রেন পরিদর্শক হাবিবুর রহমানসহ জিআরপি থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে চালক কে রক্ষা করেন। পরে আরেফিন আরা লিন্ডা তার কয়েকজন সঙ্গিসহ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান।

ঘটনার পর ট্রেনর চালক ও পরিচালক ট্রেন ছাড়তে অস্বীকার করলে প্রায় এক ঘন্টা ট্রেনটি ষ্টেশনে আটকা পড়ে। বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ট্রেনটি রাত পৌনে আট’টার দিকে গন্তব্যের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। রাতে জিআরপি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং সান্তাহার ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ আরেফিন আরা লিন্ডা কে রেলওয়ে জিআরপি থানায় ডেকে নিয়ে আসেন এবং এ ঘটনার জন্য কৈফিয়ত চান ।

দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চলার পর আরেফিন আরা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। পরে পুলিশের কাছে লিখিত মুচলেকায় তিনি উল্লেখ করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে যে কোন জায়গায় ডাকলে তিনি হাজির হবেন। সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি আকবর হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি দায়ের করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন