বগুড়া সংবাদ ডট কম (গাবতলী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম লাকী) : বগুড়ার গাবতলীতে ৩টি ইউনিয়নে নিম্নমানের ইট দিয়ে চলছে ৫৪লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫’শ মিটার ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের কাজ। নিম্নমানের এই কাজ বন্ধ করতে নেপালতলী ইউনিয়নের চকরাধিকা গ্রামের স্থানীয় জনগণ গত ২৪জুন প্রতিবাদী মুখর হয়ে ওঠে। সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দাপটের কারণে পুনরায় কাজ শুরু হয়। বিষয়টি এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এতে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় কর্তৃক এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় ১টি প্যাকেজে ৩টি ইউনিয়নে ১৫’শ মিটার ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন হয়। এই নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় মোট ৫৪লাখ ১৪হাজার ৫’শ ৮৫টাকা। রাস্তাগুলো হলো গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের চকমাল্লা বাইপাস রাস্তা সংলগ্ন আনছারের বাড়ি হতে আলিমের বাড়ি পর্যন্ত ৫’শ মিটার, নেপালতলী ইউনিয়নের কালের ঘাট থেকে চকরাধিকা মন্দির পর্যন্ত ৫’শ মিটার এবং দূর্গাহাটা ইউনিয়নের শিলদহবাড়ী গ্রামে ৫’শ মিটার। এরমধ্যে রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কাজটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে নেপালতলী ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। গত ২৫জুন দুপুরে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের চকরাধিকা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩নম্বর ইট দিয়ে চলছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। এছাড়াও ইট বিছানো হয়েছে অনেক ফাঁকা ফাঁকা করে। স্থানীয় আঃ মতিন, হাসেন আলী, বুলু আকন্দ, বাবুসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ওই রাস্তা নির্মাণ কাজে ১নম্বর ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ৩নম্বর ইট। দায়সারাভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে এই রাস্তা। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করে সরকারী বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব ঠিকাদার। নির্মিত এই রাস্তাগুলো এতোটাই দূর্বল যে, ভাড়ী যানবাহন চলাচল মাত্রই ইটগুলো ভেঙ্গে মাটিতে দেবে যাচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও খানা খন্দকে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে অল্প কিছুদিন পরই মানুষের চলাচলা কষ্টকর হয়ে পড়বে। তাই মানসম্পন্ন রাস্তা নির্মাণে স্থানীয় জনগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারী মিন্টু বলেন, ৩নং ইট দিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের এই কাজ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, সকল নিয়মনীতি মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কোন অনিয়ম করা হয়নি। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একটু সমস্যা হলেও সেগুলো পরে ঠিক করা হয়েছে। রাস্তায় ব্যবহৃত ৩নম্বর ইট বিষয়ে তিনি বলেন, ভাটা থেকে লাখ লাখ ইট ক্রয় করা হয়েছে। এরমধ্যে হয়তোবা কিছু ইট নিম্নমানের এসেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্র জানায়, প্রায় সোয়া ১৮লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের কালের ঘাট থেকে চকরাধিকা মন্দির পর্যন্ত ৫’শ মিটার রাস্তা হেরিং বোনবন্ড (এইচবিবি) রাস্তা লটারীর মাধ্যমে নির্মাণের দায়িত্ব পান মোঃ ফরিদ উদ্দিন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি নেন গাবতলীর মহিষাবান ইউপি’র চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। গত কয়েকদিন আগে থেকে তিনি কাজটি নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন