বগুড়া সংবাদ ডট কমঃ (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি: রশিদুর রহমান রানা) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নে উত্তর বেলাই গ্রামে শাশুড়ির নিষ্ঠুর নির্যাতন-অত্যাচারে অতিষ্ঠ মৌসুমী নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী পুত্রবধুর বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। ঐ গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ২ ছেলে আজিজুল হক সৌদিতে আর মিজানুর রহমান মালয়েশিয়ায় থাকেন।

সৌদি প্রবাসী আজিজুল হক প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে একই গ্রামের নানী আনোয়ারা বেওয়ার বাড়িতে আশ্রিতা মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ মৌসুমীকে বিয়ে করে ঘড়ে তোলে। বিয়ের পর থেকে মৌসুমী স্বামীর বাড়িতে থাকেন।

এদিকে বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় আজিজুল আবার সৌদিতে চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে ডাইনী শাশুড়ি আবেদা বেওয়া কারনে-অকারনে মৌসুমীর সাথে নিষ্ঠুর আচরন করতে থাকে। কিন্তু নিজের মাথা গোজার কোন ঠাঁই নেই, ভেবে মৌসুমী মুখ বুঝে সহ্য করে চলে শাশুড়ীর সব অত্যাচার। এর মধ্যে কয়েক বার মৌসুমী তার মা মফেলার কাছে শাশুড়ির অত্যাচারের কথা শুনিয়েছে। কিন্তু মা মফেলা উল্টো মেয়েকে বুঝিয়ে-শুজিয়ে আবার স্বামীর বাড়ি রেখে যান।

মৌসুমীর লাশের পাশে বসে থাকা ছোট বোন, ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া শাহানাজ খাতুন কান্না জরিত কন্ঠে, সাংবাদিকদের কাছে তাঁর বোনের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের কাহিনী বলেন, গত বুধবার দুপুরে ভাত রান্না করতে দেরি হওয়ায় শাশুড়ি আবেদা তার উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। সে সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে। এরপর খবর পেয়ে তারা মৌসুমীকে মমূর্ষ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেলে ভর্তি করান। গত ৩ দিন ধরে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার রাতে সে মারা যান।

নানী আনোয়ারা বেওয়া জানান, এরপর মৌসুমীর লাশ রাতেই স্বামীর বাড়িতে আনা হলে দরজার সামনে লাশ দেখে আবেদা বেওয়া বাড়ির মেইন দরজায় তালা দিয়ে পালিয়েছে ।

আনোয়ারা বেওয়া আরো জানান, আবেদা একজন ডাইনী শাশুড়ি, তার অত্যাচারে তার স্বামী গোলজার বিষ খেয়ে মারা গেছে। তার কারনে ছেলে আজিজুল হকের আরোও এক স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে গেছে । আমরা টাকা-পয়সা কিছু চাই না, ওই ডাইনীর বিচার চাই বলে, সে চিৎকার দিয়ে কাদঁতে থাকেন। এসময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। এসময় শত শত উৎষোক নারী পুরুষ কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, দিনভোর লাশ নিয়ে বৈঠক করে সাড়ে তিন লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে তারা শুনেছেন।

খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ বগুড়া মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি সাহিদ মাহমুদ খান জানান, লাশের রিপোর্ট হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মান্নান মন্ডল জানান, মেয়েটির উপর শাশুড়ির অত্যাচারের কথা শুনেছে সে, তবে এনিয়ে কোন দরবার শালিস হয়নি। ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকার রফাদফার চেষ্টা করছে বলে জানা যায়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন