বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। দিনে ও রাতে মিলে ৫/৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না এই উপজেলায়। এতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে তীব্র গরমের কারনেই এসমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, ২০১১ সালে ধুনট পৌর এলাকার চরপাড়ায় কোটি টাকা ব্যায়ে টার্ণকি পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র (সাব স্টেশন) স্থাপন করা হয়েছে। এর আওতায় ধুনট পৌর এলাকা সহ ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহককে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পৌছে দিতে প্রয়োজন সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ি বর্তমানে সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়া আরো নতুন নতুন গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে। তবে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করায় বেড়ে গেছে লোডশেডিং এর মাত্রা। দিনে ও রাতে মিলে প্রায় অসংখ্য বার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে ৫/৬ ঘন্টাও এই উপজেলায় বিদ্যুৎ মিলছে না। গত কয়েক দিনে লোডশেডিং এর কবলে পড়ে বিভিন্ন কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসা বানিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া বাসাবাড়ীর ফ্রিজে রক্ষিত খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ধুনট বাসষ্ট্যান্ড এলাকার এক মিল মালিক জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারনে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না। একারনে অনেকটাই লোকশানের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
তবে ধুনট পল্লী বিদ্যুতের এজিএম বিজয় কুন্ডু বলেন, এই উপজেলায় সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তীব্র গরমের কারনে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এছাড়াও মাঝেমধ্যে মেইন লাইন এবং স্থানীয় লাইনগুলোতে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় লাইনের সমস্যা খুঁজে পেতেও একটু দেরি হয়। একারনে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলেই এসমস্যা আর থাকবে না বলে জানান তিনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন