বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘিতে ধান চাষের পাশাপাশি অল্প সময়ে বাড়তি লাভের আশায় মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এলাকার কৃষক। মরিচ চাষ লাভ জনক হওয়ায় উপজেলার প্রতিটি গ্রামে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মরিচ চাষ। তবে চলতি মৌসুমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না পেয়ে কৃষকরা হতাশায় ভুগছে। এখানকার মরিচের গুণগত মান ভাল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মরিচ চাষ করে এক দিকে কৃষকরা যেমন আর্থিক ভাবে লাভবান হয় অন্যদিকে দেশের মরিচের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২৫ হেক্টর জমিতে এবার মরিচ চাষ করা হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় বেশি। তবে মরিচের আশানুরূপ দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। মঙ্গলবার আদমদীঘি হাটে প্রচুর পরিমাণ কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায় প্রতি কেজি মরিচ ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিছু কিছু গ্রামে গেল কয়েক বছর পূর্বে পরীক্ষামূলক ভাবে দু’ চার জন্য এই মরিচের চাষাবাদ শুরু হয়। তাছাড়া এই ফসল অল্প খরচে অধিক লাভ জনক হওয়ায় এলাকার কৃষকরা মরিচ চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। চলতি মওসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের গাছ গুলোতে এখনো পোকা বা ছত্রাক আক্রমন করতে পারেনি। এবারে মরিচের অধিক ফলন হলেও দাম ভাল দাম পাচ্ছে না মরিচ চাষিরা। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের মরিচ চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। কিন্তু আশানুরূপ মরিচের দাম না পেয়ে এখন খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না কৃষকদের। আগামী দিলগুলোতে বাজারে মরিচের দাম বাড়লে কিছুটা পুষে উঠবে। তবে আমার দেখা-দেখি প্রতিবেশী কৃষকরাও মরিচ চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছে। ওই গ্রামের মরিচ চাষী আসাদ আলী জানায়, আমার ১২ শতক জমিতে এবার মরিচের আবাদ করেছি। এখনো পর্যন্ত বাজারে ৩০ টাকার বেশি দামে মরিচ বিক্রি করতে পারিনি তাই হতাশায় ভুগছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, আদমদীঘি উপজেলায় এ বছর ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। মরিচের ফলন ভাল ও বাজার দর বেশি পাওয়ায় কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মরিচ চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন