বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাঙ্গালী নদীর বিলচাপড়ী এলাকায় জোড়া ব্রীজের নিকট ড্রেজার মেশিন বসিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা আবারও বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বসতবাড়ী ও ফসলী জমি সহ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত আরসিসি গার্ডার জোড়া ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে। অব্যাহত বালু উত্তোলনে এলাকায় নদী ভাঙ্গনও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপড়ী এলাকার বাঙ্গালী নদীতে ২০১৩ সালে এলজিডির তত্বাবধায়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে জোড়া আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মান করা হয়। কিন্তু ব্রীজটি নির্মানাধীন অবস্থা থেকেই ওই নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। ইতিপূর্বে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করায় দীর্ঘদিন ওই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারো ওই ব্রীজের উত্তর ও দক্ষিন পাশে দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বোরিং করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। বালু বিক্রির ট্রাকগুলো বিলচাপড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজের মাঠ দিয়ে চলাচল করছে। নদীর গভীর তলদেশ থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন সাহায্যে বোরিং করে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারনে ইতিমধ্যেই নদীর বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের এভাবে বালু উত্তোলনের কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত জোড়া ব্রীজটিও হুমকির মুখে পড়েছে।
বিলচাপড়ী গ্রামের আমজাদ হোসেন ও আজিজর রহমান বলেন, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তাই তারা এলাকার ক্ষতি করে বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বোরিং করে নদীর গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের কারনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ব্রীজের নিকট ড্রেজার মেশিন বসানোর কারনে ব্রীজটিও হুমকির মুখে পড়েছে। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
তবে এবিষয়ে বিলচাপড়ী গ্রামের বালু ব্যবসায়ী রবিউল হাসান উৎসব বলেন, বগুড়ার আব্দুল মান্নান ওরফে ফ্রেম মান্নান নামের এক ব্যক্তি বালু মহলটি ইজারা নিয়েছেন। তাই আমি শুধু ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্বে রয়েছি। তবে বালু উত্তোলনে কারো ক্ষতি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে কথিত ইজারাদার আব্দুল মান্নানের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, ব্রীজের নিকট থেকে বালু উত্তোলন করা হলে ব্রীজের পিলার ডেবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন