বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার সান্তাহার সাইলো অধিক্ষক ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নিতী ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে র্দুব্যবহার ও নানা ধরনের হয়রানীর কারনে সাইলো আভ্যন্তরিন কর্মকান্ডে জটিলতা ও স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সাইলোর কর্মচারীদের পক্ষ থেকে খাদ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ দূর্নিতী দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, সাইলো অধিক্ষক ইলিয়াস হোসেন ২০১৫ সালে সান্তাহার সাইলোতে যোগদান করেন। তাঁর যোগদান কালীন সময়ে সান্তাহারে শুধুমাত্র ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন গম সংরক্ষনের একটি সাইলো ছিল। পরবর্তিতে জাপান সরকারের আর্থিক সহয়তায় একই সীমানায় চাল সংরক্ষনের জন্য একই ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন আরো একটি অত্যাধুনিক সাইলো নির্মান করা হয়। যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে উদ্ভোধন করেন। অভিযোগে জানা গেছে নতুন সাইলো নির্মানের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিক্ষক ইলিয়াস হোসেন সাবেক সাইলো অধিক্ষক ও প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফার সাথে যোগসাজস করে সাইলোর বিভিন্ন সম্পদ লুটপাট করে বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পূর্বে তিনি সাইলো সীমানার মধ্যে অবস্থিত তিনটি বাংলো, ব্যারাক,সহ কয়েকটি বাসা ভেঙে ফেলার জন্য দরপত্র আহবান করেন। পরে নামমাত্র ঠিকাদার নিয়োগ দেখিয়ে সাইলোর কর্মরত কর্মচারীদের দিয়ে ওই স্থাপনা ভাঙার কাজ করেন এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। স্থাপনার পুরাতন ইট, দরজা জানালা গোপনে বিক্রি করে দেন। কিছু ইট আভ্যন্তরীন রাস্তা নির্মানের সময় সংস্লিষ্ট ঠিকাদারের নিকট বিক্রি করেন। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সাইলোর নিজস্ব সড়কের দুই পাশে প্রায় অর্ধ শতাধিক ছোট ছোট পুকুর রয়েছে। এ সকল পুকুর ইজারা না দিয়ে কতিপয় ব্যাক্তিকে মাছ চাষের সুযোগ দিয়ে তাদের নিকট থেকে টাকা গ্রহন করেন। একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে সাইলো সীমানার মাঝে প্রায় এক একরেরও বেশি জমিতে ধান চাষ ও কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ করার অভিযোগ রয়েছে। ওই সকল ধানের জমিতে এবং পুকুরে সাইলোর নিজস্ব সেচ পাম্প থেকে পানি সরবরাহ করে থাকেন। ইলিযাস হোসেনের বিরুদ্ধে সাইলোর অনেক মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাইলো শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন কর্মচারী জানান, অধিক্ষকের কারনে সাইলোর চাল মজুদ কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ঠিাকাদারদের নিয়ে আসা চাল নিম্ন মানের এমন অজুহাত দেখিয়ে চালভর্তি ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা সাইলোর ফটকে আটকিয়ে রাখে। দিনভর আটকানোর পর একপর্যায়ে গোপন সমঝোতা হলে গভীর রাতে সেগুলো খালাসের নির্দেশ দেন। শ্রমিকরা জানান, রমজান মাসে অনেক রাতে কষ্ট করে তাদের চাল খালাসের কাজ করতে হয়। সান্তাহার সাইলো কর্মচারি কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক শরিফুল হক জানান, অধিক্ষক ইলিয়াস হোসেন সংঠনের ৭৩ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেন কিন্তু সেই টাকা আর ফেরৎ দেন নি। কর্মচারি শ্রী সঞ্জয় বলেন,অধিক্ষক ইলিয়াস হোসেন আমাদের অনেক ক্ষতি করেছেন। তিনি অনেক কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ডে ক্ষতিকর মন্তব্য লিখেছেন। একই সাথে সম্প্রতি তিনি অন্যায় ভাবে সাইলো সরকারি কর্মচারি কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলামকে বদলী করেছেন।
ইলিয়াস হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাইলোর কিছু কর্মচারি বাড়তি সুযোগ নিতে চান। তাদের সে সকল সুযোগ না দেয়ায় তারা বিভিন্ন দপ্তরে নামে বেনামে দরখাস্ত করেন। তিনি ইট,গাছ সহ অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করেন নি বলে দাবি করেন। তবে তিনি সাইলোর জমিতে ধান চাষ,পুকুরে মাছ চাষ এবং সাইলোর সেচ পাম্প থেকে পানি নেয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন অনেক সরকারি অফিসে এ ধরনের কাজ হয় এটা বড় কোন বিষয় না।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন