বগুড়া সংবাদ ডটকম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন (৫৫) পেশায় একজন শিক্ষক। মানুষের নানা ধরনের নেশা থাকলেও দুলাল হোসেনের নেশা অন্য সকল নেশার চেয়ে সম্পূর্ন আলাদা। তাঁর নেশা অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে রক্ত দেয়া । কারো রক্তের প্রয়োজন এমন সংবাদ পেলে এবং রক্তের গ্রুপের মিল থাকলে দুলাল হোসেন নিজেই ছুটে যান সেই অসুস্থ মানুষটির কাছে। এর বিনিময়ে সে কোন টাকা-পয়সার সুবিধা নেন না । এমনকি রক্ত গ্রহিতা বা তাদের পরিবারের নিকট থেকে কোন খাবার খান না। এ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ কে তিনি ৫১ ব্যাগ রক্ত দিয়েছেন। তাঁর এই রক্ত দেয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়াই রক্তের প্রয়োজন পড়লেই সকলে ছুটে যান দুলাল হোসেনের বাসায়।
একান্ত সাক্ষাৎকারে দুলাল হোসেন বলেন, আনুমানিক ২০ বছর বয়স থেকে তিনি রক্ত দেয়া শুরু করেছেন। মানুষের প্রয়োজনে বছরে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত রক্ত দেন তিনি। তিনি জানান, তাঁর রক্তের গ্রুপ (এ-পজিটিভ)। এই রক্তের গ্রুপ সহজলভ্য হওয়ায় প্রায় মানুষ তাঁর নিকট ছুটে আসে। দুলাল হোসেন আরোও বলেন, রক্ত দেয়ার পর যখন জানতে পারি আমার রক্ত নিয়ে অসুস্থ মানুষটি সুস্থ হয়ে উঠেছে, তখন আনন্দে বুক ভরে ওঠে। আবার অনেক সময় মৃত্যুর সংবাদ ও আসে তখন খুব কষ্ট লাগে। মনে হয় যদি আরো আগে ওই মৃত ব্যাক্তিটিকে রক্ত দিতে পারতাম হয়ত সে সুস্থ হয়ে উঠতো। দুলাল হোসেনের ইচ্ছা সে একশ মানুষ কে রক্ত দেবে। তিনি বলেন মহান আল্লাহ আমাকে হায়াত দান করলে আমার এই ইচ্ছা অবশ্যাই পুরুন করবো। এত রক্ত দেয়ার পর আপনে শারিরিক ভাবে অসুস্ততা বোধ করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রক্ত দেয়ার পর সাময়িক কিছু সমস্যা হয় কিন্তু পরে আর কোন সমস্যা থাকে না। উপজেলার দক্ষিন গনিপুর গ্রামের গৃহবধু দিলসাদ আরা বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে সান্তাহারের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার রক্তের প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্যরা রক্তের খোঁজ করছিলেন। এমন সময় দুলাল হোসেন ওই ক্লিনিকে একটি রোগী দেখার জন্য আসেন। আমার রক্ত প্রয়োজন এ বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেই আমার কাছে আসেন এবং আমাকে রক্ত দেন। দুলাল হোসেন ছাতিয়ানগ্রাম অন্তাহার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার গনিত বিষয়ের সহকারি শিক্ষক। স্ত্রী রোজী আক্তার গৃহিনী। তাদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে । মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক শ্রেনীতে পড়াশোন করেন। স্ত্রী রোজী আক্তার স্বামীর এই মহৎ কাজে গর্ববোধ করেন এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনিও ৭ ব্যাগ সেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন