বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : পবিত্র ঈদে পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা জানাতে কিছু দিন আগেও তরুণ-তরুনী সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রধান বার্তা ছিল ঈদ কার্ড। আাদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শুরু করে শহরে নানা প্রান্তে ঈদ কার্ডের দোকান বসতো। রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুরে সুরে তাল মিলিয়ে ঈদের আনন্দ কে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এক সময় বিভিন্ন ধরনের আবেগময় বার্তা দিয়ে সাজিয়ে বিলিয়ে দেওয়া হত ঈদ কার্ড। কে কত ঈদ কার্ড বানাতে বা কিনতে পারবে, সেটি নিয়ে শুরু হয়ে যেত প্রতিযোগিতা। ঈদের সময় সান্তাহার পৌর শহরের প্রধান সড়কের উপহার শপিং মহল সংলগ্ন বেশ কয়েকটি দোকানে ঈদ কার্ডের ব্যবসা হত রমরমা। এই দোকানগুলিতে ঈদের সময় থাকত ক্রেতাদের উপচে ভরা ভীড়। ঈদ কার্ড তার ঐতিহ্য হারনোর ফলে এই সকল দোকানীরা তেমন আর ঈদ কার্ড রাখে না দোকানে। আবার অনেকে এই ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকে ব্যবসার ধরন করেছে পরিবর্তন। কেউ ঈদ কার্ড ছেড়ে বিবাহের কার্ডের ব্যবসা ধরেছেন।
সান্তাহার পৌর শহরে কার্ড ব্যবসায়ী আরমান জানালেন, কয়েক বছর আগে আমি প্রতি ঈদের সময় প্রতিদিন ঈদের কার্ড বিক্রি করেছি শতাধিক। গত সাত দিনে এবার বিক্রি করেছি মাত্র ৫টি। ভাবছি সামনের ঈদের সময় আর ঈদ কার্ড রাখবো না। ডিজিটাল যুগে আর কেউ ঈদ কার্ড কিনতে চায় না। সান্তাহারের ইতিহাস গবেষক সাজেদুল ইসলাম চম্পা বলেন, এতো সময় কই ? মোবাইলে এসএমএম দিলে খরচ কম এবং অনেক দূরপ্রান্তে তা পৌছানো সহজ। ঈদ কার্ড যে ভাবে দ্রুত তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে, কয়েক বছর পর আগামী প্রজন্ম হয়তো জানবেই না ঈদ কার্ড আসলে এটা কি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন