বগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম) : বগুড়ার শেরপুরে গ্রাম্য শালিশী বৈঠকে বাদীর পাওনা টাকা আদায় করে আত্মসাত করার ঘটনায় কথিত দুই মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে শেরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের মহিপুর কলোনী গ্রামের মৃত সাহাবুদ্দিন সরকারের ছেলে আশরাফ আলী তার স্বত্ব ভোগদখলীয় মহিপুর মৌজার ২৪২, ২৪৬, ২৮১,২৩৮ দাগের ৯০ শতাংশ জমির খাজনা খারিজ করতে প্রায় ২বছর আগে একই ইউনিয়নের তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রঞ্জু সরকারের কাছে ৮০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু টাকা নিয়ে ওই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জমির খারিজ না করে দিয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে টাকাগুলো আর ফেরত দেয়না ভূমির মালিককে। এর প্রেক্ষিতে আশরাফ আলী সুষ্ঠ ও ন্যায্য বিচার পেতে বগুড়া জেলা এশিয়া মানবাধিকার কমিশনের কথিত সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের কাছে লিখিত আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কথিত মানবাধিকার কর্মীরা গত ০৩ এপ্রিল তাদের শেরপুর হাটখোলা রোডস্থ মানবাধিকার কার্যালয়ে শালিশী বৈঠক করে এবং ওই ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা রঞ্জু সরকারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে নিজেদের আছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে বিচারপ্রার্থী আশরাফ আলী ওইসব মানবাধিকার কর্মী রশিদ ও রুহুল আমিনের কাছে বিচারে ধার্য ৪০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে, কাগজপত্রে জটিল আছে মর্মে কালক্ষেপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই মানবাধিকার কর্মীদ্বয় বিচারের টাকা না দেওয়ায় গত ২ জুন শনিবার বিকালে ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বাদি হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বর্তমানে ওই মানবাধিকার কর্মীদ্বয় পূর্বের সংগঠন বাতিল করে বর্তমানে সার্ক মানবাধিকার কমিশনে ওই মানবাধিকারকর্মী ও বর্তমানে শেরপুরে উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন বলে মানবাধিকারকর্মী রুহুল আমিন দাবী করেন।
এ ব্যাপারে বিচারপ্রার্থী ভূক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, কথিত মানবাধিকার কর্মী আব্দুর রশিদ ও রুহুল আমীন বিচারের টাকা আত্মসাৎ করায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এছাড়াও আরো কয়েকটি বিচারের নামে ওইসব মানবাধিকারকর্মী বা সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতারনা করে আসছে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে ওই মানবাধিকার কর্মী রুহুল আমিন বলেন, আমি বিচারের টাকাগুলো লিখিত নিয়ে সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও বিচারপ্রার্থী আশরাফ আলীর কাছে দিয়েছি। থানায় অভিযোগ হলে কাগজপত্র সাপেক্ষে মোকাবেলা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন