বগুড়া সংবাদ ডট কম (কাহালু প্রতিনিধি এম এ মতিন) : বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্র ইউনিয়নের বিবিরপুকুর বাজারের (লোহাজল গ্রামের) মৃতঃ আলহাজ্ব বছির উদ্দিন এর পুত্র আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম রেনু পোনা, শিং, পবা মাছ উৎপাদনে এবং মাছ চাষে উত্তরবঙ্গের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন তিনি। সে রেনু পোনা উৎপাদন ও মাছ চাষে জাতীয় স্বর্ণ পদক সহ অসংখ্য বার পুরুস্কৃত হয়েছেন। জানা গেছে, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ১৯৯২ সালে বিবিরপুকুর বাজারের দক্ষিন পার্শ্বে একটি মিনি হ্যাচারী করে মাছের রেনু পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করলেও প্রশিক্ষন না থাকার কারনে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। তারপরেও সে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে রেনু পোনা উৎপাদনের কাজ ছেড়ে না দিয়ে যুব উন্নয়ন, মৎস্য অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে নব উদ্দীপনায় আবারও জোড়ালো ভাবে রেনু পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। প্রশিক্ষনের পর মাত্র ৩ বছরের মাথায় রেনু পোনা উৎপাদনে ও মাছ চাষে আলহাজ্ শফিকুল ইসলাম উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যায়। ২০০০ সালের মধ্যে সে তার মিনি হ্যাচারীকে চারগুন বৃদ্ধি করে বড় হ্যাচারীতে রূপান্তর করে। বর্তমানে তার হ্যাচারীর নাম শাহজালাল শাহসুলতান মৎস্য বীজাগার। ২০০২ সালে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রেনু পোনা উৎপাদনকারী হিসেবে তিনি জাতীয় স্বর্ণ পদক লাভ করেন। সফল রেনু পোনা উৎপাদনকারী ও মাছ চাষী হিসেবে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম যতবার পুরুস্কৃত হয়েছেন এলাকাবাসীর ধারনা মতে এমন রেনু পোনা উৎপাদনকারী ও মাছ চাষীর সংখ্যা দেশের মধ্যে খুবই কম রয়েছে। আলহাজ্ব শফিকুল ইসলামের হ্যাচারীতে উৎপাদিত রেনু পোনা দেশের বিভিন্ন জেলার মাছ চাষীরা পর্যন্ত কাহালুর বিবিরপুকুর শাহ্ সুলতান শাহ্ জালাল মৎস্য বীজাগার হতে সংগ্রহ করে নিয়ে যান। বর্তমানে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম নিজের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি রেনু পোনা উৎপাদনে ও মাছ চাষে এলাকার অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। গত বছরে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১০ হাজার কেজি রেনু, ১ কোটির উপরে পোনা ও ৫০ টনের মত আমীষ জাতীয় মাছ বিক্রি করেছেন। তিনি ২০০৯ সালে বগুড়া জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ রেনু পোনা উৎপাদনকারী হিসেবে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম সরকারী ভাবে পুরুস্কৃত হয়েছেন। ২০১৩ সালে আবারও আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ রেনু পোনা উৎপাদনকারী হিসেবে জাতীয় রূপ্য পদক লাভ করেন। রেনু পোনা উৎপাদনের পাশাপাশি আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ২০১২/১৩ইং সাল হতে নতুন অঙ্গিকে শিং ও পবা মাছ উৎপাদন শুরু করেছেন। জাতীয় রূপ্য ও স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত মৎস্যচাষী আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার মাছ চাষীদের কাছে রেনু পোনা সরবরাহের তার দক্ষতা রয়েছে। তিনি আরও জানান, আগে মাছে ফিড খাওয়ানোর পর মাছে যে হারে বাড়তো, বর্তমানে মাছে ফিড খাওয়ানোর পর মাছ সে হারে বাড়ছেনা। এই জন্য তিনি মাছের ফিড মান সন্মত কি-না তা দেখার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন