বগুড়া সংবাদ ডট কম(শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান): “আর সহ্য করতে পারছি না। এবার মেরে হাতই ভেঙ্গে দিলো। বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই অত্যাচার শুরু করে স্বামী, ভাসুর, দেবর ও ননদ। আগের বারের মারপিটে এখনো হাটুর ব্যথা করে। হাটা চলা ফেরা করতে পারি না। এমনকি শুয়ে থাকলেও ব্যথা করে। ৯ মাসের মেয়েকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাই। আল্লাহ কেন এমন করলো”। ছোট্র শিশুকণ্যাকে কোলে নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে কথাগুলো বলছিলেন যৌতুকের কারণে স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের অত্যাচারের শিকার রিমা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধু। রিমা খাতুন বগুড়া শাজাহানপুরের ফুলকোট বামুনদিঘী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম প্রামানিকের মেয়ে।
গৃহবধু রিমা খাতুনের বড় বোনজামাই সাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ২ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তি গ্রাম ক্ষুদ্রফুলকোট গ্রামের ফজলুল হক মুন্সির পুত্র শাহ আলমের (২৫) সাথে রিমার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৭০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং ৮ আনি সোনার গহনা দেয়া হয়।
রিমা খাতুন বলেন, বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে স্বামী, ভাসুর, দেবর ও ননদ অত্যাচার করতো। বিয়ে হওয়ার ৪-৫ মাস পর ২ মাসের গর্ভবতি থাকা অবস্থায় দেড় লক্ষ টাকা যৌতুক চেয়ে বেদম মারপিট করে। রিমার বড়ভাই মিজানুর রহমান জানান, মারপিটের খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পর তারা দূর্ব্যবহার করে এবং মারমুখি হয়। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ছেলের বাড়িতে বৈঠক বসে। বৈঠকে ১ লক্ষ টাকা দিতে চেয়ে ১ মাসের সময় চেয়ে নেয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই টাকা দিয়ে দেয়া হয়।
রিমা খাতুন জানান, এরপর কিছু দিন স্বাভাবিক থাকার পর আরো ৫০ হাজার টাকা চেয়ে অত্যাচার শুরু করে। ১ লক্ষ টাকা দেয়ার ৮মাস পর গত রোববার বিকেলে ভাসুর রেজাউল করিম ওরফে বিশে, দেবর নুর আলম এবং ননদ মিলে লোহার রড দিয়ে মারপিট করে এবং তাকে আটকে রাখে। মারপিটে বাম হাত ভেঙ্গে যায় এবং শরিরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-যখম হয়। রিমা খাতুন আরো জানান, প্রতিবেশী মৃত মোকতেল হোসেনের পুত্র দুলাল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তি তার স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে কু-পরামর্শ দিতো। তার কু-পরামর্শেই স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন তার উপর নির্যাতন করতো।
রিমার বোনজামাই সাহিদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বার মারপিটের খবর পেয়ে রিমার বড়ভাই মিজান সহ সেখানে গেলে তারা তাদের গায়ে হাত তোলে এবং আটকে রাখে। পরে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। এঘটনায় রিমার বড়ভাই মিজানুর রহমান বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে এসআই রুম্মান ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুরুষেরা পালিয়ে যায়। পুলিশ রিমাকে উদ্ধার করে আনতে ধরলে মহিলারা বটি বের পুলিশের উপর হামলা করে। হামলায় এক কনস্টেবলের আঙ্গুল কেটে যায়। পরে পুলিশ রিমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় এবং ওই বটি জব্দ করে।
আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল জানান, বিষয়টি ন্যাক্কার জনক। যৌতুকের কারণে মারপিট করে হাত ভেঙ্গে ফেলে চিকিৎসা না দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে তালা লাগিয়ে আটকে রাখা জঘন্যতম অপরাধ। জানতে পেরে সাথে সাথে পুলিশকে জানিয়ে স্থানীয় দুইজন মেম্বার পাঠিয়ে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করা হয়।
থানার এসআই রুম্মান জানান, খবর পেয়ে শিশুকণ্যা সহ গৃহবধুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অভিযোগ হয়েছে। চিকিৎসার জন্য এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন