বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বসতবাড়ির মূল দরজা ও পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে জমি জবর-দখল পূর্বক ইটের প্রাচীর নির্মাণ করায় ৪ মাস যাবত মানবেতর জীবনযাপন করছে একটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের কুন্দদেছমা গ্রামে।
জানাগেছে, উপজেলার কুন্দদেছমা গ্রামের ফজলুল হক মন্ডলের পুত্র তাজুল ইসলামের (৩০) সাথে প্রতিবেশী মৃত খোরশেদ আলী ফকিরের দু’পুত্র আব্দুর রশিদ ফকির (৫৫) ও আব্দুল হাকিম ফকিরের (৪৮) জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছিল। ৪ মাস পূর্বে আব্দুল হাকিম দলবল নিয়ে গিয়ে তাজুল ইসলামের বসতবাড়ির জমি জবর-দখল করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পথ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে তাজুল ইসলাম সহ তার প্রতিবেশী দু’টি পরিবার বাড়ি থেকে বাহির হতে পারছে না। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়ায় তাজুল ইসলামের মাটির তৈরী শয়ন ঘরের মেঝে-দেয়াল ভিজে গিয়ে যেকোন সময় ধ্বশে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তাজুল ইসলাম সহ তার প্রতিবেশী দু’টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তাজুল ইসলাম জানান, প্রায় ৮ বছর পূর্বে প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ ফকিরের নিকট থেকে ১০ শতক জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। ৪ মাস পূর্বে আব্দুর রশিদ ফকিরের ছোট ভাই আব্দুল হাকিম ফকির ওই জমি দাবী করে ইটের প্রাচীর দিয়ে জমি জবর-দখলের চেষ্টা করে। ওইদিনই তাজুল ইসলাম বাদি হয়ে শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রেখে উভয় পক্ষকে নির্ধারিত তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বৈঠকে বসার নোটিশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই আব্দুল হাকিম ফকির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বসতবাড়ির একমাত্র পথ ইটের প্রাচীর ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এরপর নিরুপায় হয়ে জেলা বগুড়ার ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (নং-১২৯/২০১৭ অন্য) দায়ের করেন তাজুল ইসলামের পিতা ফজলুল হক মন্ডল দিং। আদালত এটিএম সামসুজ্জামান নামের একজন কমিশনারকে মামলার তদন্তভার অর্পন করেন এবং ৭দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্ট পেয়ে বিজ্ঞ আদালত ৭ দিনের মধ্যে বিবাদীগনকে নিজ খরচে ইটের প্রাচীর ও বেড়া ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি ৭ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলা না হলে আদালতের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং তার খরচ বিবাদীগনকে বহন করতে হবে বলেও নির্দেশনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল হাকিম প্রাচীর না ভেঙ্গে আদালতে আপীল করেন। এমতাবস্থায় পরিবার-পরিজনসহ গবাদি পশু নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে দূর্বিষহ জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি।
আব্দুল হাকিম ফকির জানান, আদালতের নির্দেশ পেয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একই আদালতে আপীল করা হয়েছে। কারো যাতায়াতের পথ বন্ধ করা হয়নি। নিজের জমিতেই প্রাচীর দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন