বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া শাজাহানপুরের আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। খেলার মাঠ সহ বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তির চারিপাশে ১৮ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে ২’শ ৬ মিটার জুড়ে এই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তির প্রায় ২০ শতাংশের অধিক জমি বেদখল দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন্টু বলেন, আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি প্রায় ১ একর ৬৪ শতাংশ। বিদ্যালয়ের উত্তর, দক্ষিন ও পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় ২০ শতকের বেশী জমি বেদখল দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। দক্ষিন পার্শ্বে পূর্ব থেকেই ৭ ফিট ইট সোলিং রাস্তা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট্য প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে রাস্তার নামে ১৫ ফিট জমি বেদখল দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করছে। এছাড়াও ওই রাস্তার পাশে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখল করে ব্যক্তি মালিকানায় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এমনিতেই মহাসড়কের জন্য খেলার মাঠ সংকুচিত হয়েছে। এরপরও ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এভাবে অপ্রয়োজনীয় ভাবে জমি ছেড়ে দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে সরকারী সম্পত্তি বেদখল দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইউএনও কে জানানো হয়েছে। তিনি এসে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাকে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারপরও অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি উদ্ধার না করে উল্টো বেদখল দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করায় আমরা স্থানীয়রা হতাশ হয়েছি। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর নির্মাণ বর্তমান সরকারের শিক্ষার উন্নয়নের ধারাবাহিকতার একটি অংশ। যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর নির্মাণ সেহেতু শুধুমাত্র পূর্ব পার্শ্বে মহাসড়কের সাথে গেট না রেখে পশ্চিম পার্শ্বে আরো একটি গেট রাখা হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, প্রশাসন যদি সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার না করে উল্টো বেদখল দেয় তাহলে আমরা সাধারন জনগণ কি করতে পারি। প্রশাসনের উচিৎ ছিল বিদ্যালয়ের সম্পত্তি উদ্ধার করে প্রাচীর নির্মাণ করা। ১৫ ফিট রাস্তার কোনই প্রয়োজন নেই। যে ইটসোলিং রাস্তা রয়েছে তাই যথেষ্ট। তাছাড়া মাঠের দক্ষিন পশ্চিম কর্ণারে যে ভাবে প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে শুধু সম্পত্তিই বেদখল হবে না খেলার মাঠের সুন্দর্য্যই নষ্ট হয়ে যাবে। ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বিদ্যালয় এবং খেলার মাঠের ক্ষতি করে এভাবে প্রাচীর নির্মাণ আমরা স্থানীয়রা মেনে নিতে পারি না।
আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডেমাজানী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সিমানা প্রাচীর নির্মাণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে নোংরা পলিটিক্র শুরু হয়েছে। কথা হলো বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তির উপর যৌক্তিক সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, এখানে কোন ব্যক্তি স্বার্থ দেখা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ ও আনসার ভিডিপি ক্লাবের জন্য রাস্তা ছাড়া হয়েছে। এছাড়া ভবিৎষতে প্রাচীরের পাশ দিয়ে ড্রেন করা হবে।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চালের ট্রাক ঢোকার রাস্তা দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদে ট্রাক ঢোকার মত কোন ব্যবস্থা এখনো ক্লীয়ার হয়নি। যে টুকু রাস্তা ছাড়া হয়েছে তাতে শুধু ব্যক্তি স্বার্থই রক্ষা হয়েছে। দক্ষিন পার্শ্বে রাস্তা চেপে দিয়ে পশ্চিম পার্শ্বে একটা গেট করা হলেই বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষা হতো এবং ইউনিয়ন পরিষদেও ট্রাক ঢুকতো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফুয়ারা খাতুন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য রাস্তা ছাড়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, যার সম্পত্তি তারই কোন অভিযোগ নেই। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাথে কথা বলেই রাস্তা ছেড়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের সম্পত্তি উদ্ধার না করে উল্টো বেদখল দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ সাধারন মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন