বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে) : দেশব্যাপি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা ক্রস ফায়ারে নিহতের ঘটনায় সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার ধুনটেও আতংঙ্কিত হয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রস ফায়ারের ভয়ে ছিঁচকে মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই ঘর ছাড়লেও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে তাদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে যাচ্ছে। আর এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদারের তালিকায় রয়েছে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাদক জোন ইউনিয়ন হিসাবে ধুনট সদর, মথুরাপুর, গোপালনগর, গোসাইবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী ও নিমগাছী ইউনিয়নের নাম উঠে এসেছে। তবে অন্য ইউনিয়নেও কম বেশি মাদক বিক্রি হলেও ইয়াবার সর্গ রাজ্য হিসেবে ওই ৬টি ইউনিয়নই বেশি পরিচিত। এছাড়া ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মথুরাপুর ও গোপালনগর। পরিবহন সুবিধা এবং দাম কম হওয়ায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে ধুনট উপজেলায় জায়গা করে নিয়েছে মরন নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। উঠতি বয়সের তরুন-তরুনী, ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতী ও কর্মজীবি সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশা মানুষই এ মরন নেশায় আশক্ত হয়ে পড়ছে।
ধুনট থানার তথ্য মতে, উপজেলায় পুলিশি অভিযানে ২০১৭ সালে ধুনট থানায় ৯৬টি এবং ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ৭০টি মাদক মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতারও হয়েছে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। এসব মাদক মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি শহরে মাদক বিরোধী অভিযানের কারনে ইয়াবা ঢুকে পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। গ্রামে পুলিশি নজরদারি কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামকেই বেছে নিয়েছে মাদক জোন এলাকা হিসেবে। মাদক জোন এলাকার মধ্যে ধুনট সদর ইউনিয়নের সদরপাড়া, বেলকুচি, চালাপাড়া, গোপালনগর ইউনিয়নের কোনাগাতি, মহিশুরা বাজার, বানিয়াগাঁতি, গোপালনগর, ভানুডাঙ্গা বাজার, খয়ারাতি পাড়া, কালিতলা, মথুরাপুরের শ্যামগাতি, মথুরাপুর বাজার, ধেরুয়াহাটি, গোসাইবাড়ী বাজার, চুনিয়াপাড়া, ভান্ডারবাড়ী, নিমগাছী, বেড়েরবাড়ী, কালিতলা উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন মাদক ব্যবসায়ীও তৈরী হয়েছে। আর নতুন মাদক বিক্রেতাদের গড ফাদারের তালিকায় রয়েছে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ধুনট থানায় গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীই হচ্ছে মথুরাপুর ও গোপালনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ধুনট সদরের এক মাদকসেবীর স্ত্রী জানায়, তার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবায় আশক্ত হয়ে পড়েছে। নেশায় আশক্ত হয়ে সে কোন কাজ কর্মই করে না। মাঝেমধ্যেই কারনে অকারনে তাকে নির্যাতন করে। নেশাগ্রস্থ স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তাকে বাবার বাড়ীতে থাকতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক মাদকসেবী জানান, মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে মথুরাপুর ও গোপালনগরে। ওই দুটি ইউনিয়ন থেকেই মাদকের বড় চালান বিভিন্ন ইউনিয়নে পাচার হয়। আর ওই দুটি ইউনিয়নে মাদক প্রবেশ করে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকা হয়েছে এবং কাজিপুরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে। ধুনট উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব হওয়ায় ওই সকল এলাকায় পুলিশী নজরদারি কম। তাই প্রত্যন্ত এলাকাকেই মাদক বিক্রির নিরাপদ স্থান হিসাবে ব্যবহার করছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। আর ওই সকল শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদারের ভূমিকায় রয়েছে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। মাঝেমধ্যে পুলিশী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও গড ফাদাররা তাদেরকে জামিনে বের করে নিয়ে আসে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো: এরফান বলেন, সারাদেশের ন্যায় মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ধুনটেও ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে এবং শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন