বগুড়া সংবাদ ডটকম (সাগর খান আদমদীঘি প্রতিনিধি ঃ) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পড়েছেন চরম দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ভেজা ও কাঁচা ধানের অজুহাত দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা মুনাফা যাচ্ছে মিল মালিক ও এলাকার ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ীদের পকেটে। বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বপ্ন ভাঙতে শুরু করেছে এবং বর্গা চাষী ও সাধারণ কৃষকদের লোকসানের বোঝা কাঁধে পড়ায় মুখে সুখের হাসি স্মান হয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। এখনও পর্যন্ত চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে অত্র উপজেলায় ধানের মূল্য নির্ধারণ করে সরকারি ভাবে ক্রয় করার ঘোষনা দেয়া হয়নি।

তবে উপজেলার মিল মালিকদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার ৩ শত ৯৭ মে:টন চাল সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহান শাহ হোসেন। বগুড়ার আদমদীঘির উপজেলার পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার রাণীনগর থানার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধানের হাট হলো আবাদপুকুরহাট, আদমদীঘি বাজার, চাঁপাপুর, কুন্দগ্রাম ও কুসুম্বী বাজার সহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাইব্রিড জাতের ধান ৬শ ৫০ থেকে ৭ শ টাকা, মিনিগেট প্রকার ভেদে ৭শ ৫০ থেকে ৮শ টাকা এবং স্থানীয় জিরাশাইল ধান ৭৫০ থেকে ৮শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা চলছে।

তবে যদি ধান ভেজা বা কাঁচা হয় তাহলে দাম বলতেই নারাজ এলাকার ফরিয়া ব্যবসায়ীরা। ধানের নায্য মুল্য, বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ধানের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিমত এলাকার সংশিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে কৃষক পর্যায়ে কম দামে ধান ক্রয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জোড় দাবী জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা।

কৃষকরা আরোও বলেন, সরকার যদি কৃষকদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ধান ক্রয় করেন তাহলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লাভবানও হবেন। স্থানীয় কৃষকরা এলাকার ফরিয়া ধান ব্যবসায়ীদের নিকট ধানের মূল্য কখনো কম কখনো বেশি এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেয় মিল মালিক ও আড়তদাদের। তবে ফরিয়া ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা আবহাওয়া কে পুঁজি করে ও এলাকার সাধারণ কৃষকদের বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়েই এবং ওজনে নানান কারসাজিতে এলাকার কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় করে রাতারাতি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, একে তো এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ফলন কিছুটা কম, অন্য দিকে ধান কাটার মজুরি দিন দিন বৃদ্ধি অপরদিকে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ইরি-বোরো ধান চাষে আগ্রহ হারাবে এলাকার কৃষকরা। উপজেলা কুসুম্বী বাজারে বেশ কয়েকজন বর্গা ধান চাষীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে তারা এবার বোরো ধান রোপন করেছে। প্রতি বিঘায় সার সেচ সহ আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। প্রথম দিকে ভাল ফলন পাওয়ার আশা ছিল।

কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে অর্থাৎ ধান পাকার পূর্ব মুর্হুতে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি আর সাথে পাল্লা দিয়ে শীলা বৃষ্টির কারণে ফলনে কিছুটা বিপর্যয় ঘটে। যেখানে গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ হারে। আর এবার একই জমিতে প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মন ধান মিলছে। বাজারে যে দাম তাতে খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোত্তাকিন তালুকদার বলনে, কৃষক পর্যায়ে ধানের নায্য মুল্য নিশ্চিত করা না হলে উৎপাদনে উৎসাহ হারাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাই বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবী জানিছেন তিনি। এখন যে দাম যাচ্ছে তা মোটেও কৃষকদের জন্য সহায়ক নয়। ব্যবসায়ীরা যাতে কোন ভাবেই সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রন করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন