বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরে শহীদ আহসানুল হক ডিগী কলেজের সিনিয়র শিক্ষক, সাংবাদিক, কবি, বে-সরকারি কলেজ শিক্ষক নেতা রবিউল ইসলাম রবীন কে প্রাননাশের হুমকি ও কলেজে এই শিক্ষককে ’অবাঞ্চিত’ করার ঘোষনা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার দুপুরে।
জানা গেছে, এই ধরনের কাজগুলো করেছে একই কলেজের শিক্ষক দেওয়ান হামিদুল হক লিটন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ, নাগরিক কমিটি, আদমদীঘি উপজেলা সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষী শিক্ষক দেওয়ান হামিদুল হক লিটনের বিচার দাবী করেন।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বেলা ১২ টার সময়ে শহীদ আহসানুল হক ডিগী কলেজের শিক্ষক কমনরুমে কলেজ শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবীন তার সহকর্মীদের সাথে একাদশ শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এই সময় কলেজের লাইব্রেরিয়ান মিসেস মাহমুদা আক্তার রবিউল ইসলামকে আক্রমন করে আবল-তাবল কথা বলতে থাকে। কিচ্ছুক্ষনের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক দেওয়ান হামিদুল হক লিটন কমনরুমে ঢুকে উচ্চস্বরে তার সাথে সাথ মিলিয়ে আবল-তাবল বলতে থাকে, রবিউল ইসলামকে আজ থেকে কলেজে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হলো। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় সাধারন শিক্ষকরা হতভম্ভ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষন পর কলেজ শিক্ষকদের সাথে অনির্ধারিত এক বৈঠকে মিলিত হয় কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুল হক বেলাল। বৈঠক চলাকালে কলেজের রবিউল ইসলাম (রবীন) তাকে অবাঞ্চিত করার কারন অধ্যক্ষের কাছে জানতে চায়। এমন সময় দেওয়ান হামিদুল হক লিটন শিক্ষক রবিউল ইসলামের দিকে যেতে যেতে বলতে থাকে, শ্যালা তোকে জানে মেরে ফেলবো। এই বলে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে মারতে উদ্যোত হয়। অনান্য শিক্ষকরা এই সময়তাকে আটকান এবং রবিউল ইসলামকে রক্ষা করেন। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়া বৈঠক শেষ করে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক দেওয়ান হামিদুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই সকল ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে জানান। তবে সাংবাদিক ও শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবীন কে অবাঞ্চিত করার ব্যাপারে শিক্ষক কমনরুপে প্রস্তাব দিয়েছি বলে স্বীকার করেন। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য গোলাম মোরশেদ বলেন, আমি অসুস্থ। ঘটনা জেনেছি। এটি নিন্দনীয়। আমি কলেজে সকল পক্ষ কে শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানায়। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য, রাশেদুল ইসলাম রাজা বলেন, আামি প্রাথমিক ভাবে ঘটনা জেনে এর নিন্দা প্রকাশ করছি এবং আমি পরিচালনা পরিষদের সভায় উক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জনাবো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক এই বলেন, শনিবারের ঘটনায় রবিউল ইসলাম রবীন সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। আমরা কিছু বলতে গেলে স্থানীয় সিনিয়র শিক্ষকরা আমাদের নানা ভাবে হয়রানি করবে ভয়ে কিছু বলতে পারি নাই।
এ বিষয়ে শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবীন এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কলেজের সকল অন্যায় কার্যাকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই, তাই আমাকে অধ্যক্ষসহ কিছু শিক্ষক দেখতে পারেন না। নানা ভাবে আমাকে ২০ বৎসর যাবত মানসিক ভাবে শাস্তি দিয়ে আসছে। আমি আমার সান্তাহারবাসির কাছে সব ঘটনার বিচার চাই। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আসাদুল হক বেলালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন