বগুড়া সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি এম এ মতিন) : কাহালুর কানড়া গ্রামের সাইদুর সরদার (৩৫) দরিদ্র ঘরের সন্তান। তার পিতা অছের আলী মানুষের সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে কোনমতে সংসার চালিয়েছেন। তার ছিলোনা কোন স্বয়-সম্পত্তি। সাইদুরের ভাগ্য জুটেনি শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ। শিশুকাল থেকেই মানুষের বাড়িতে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নিজ গ্রামেই বিয়ে করেছে শারীরিক প্রতিবন্ধী তহমিনাকে। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সাইদুরের পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান চালানোর কাজ শুরু করেন। তার দৃষ্টিশক্তিও ছিলো ভালো। ভ্যান চালিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলতো তার। বড় দু-ছেলে স্থানীয় স্কুলে পরড়াশুনা করতো। ২০০৬ সালে তার জ্বর হয়েছিলো। জ্বরের পর থেকে সে চোখে খানিকটা কম দেখতো। চোখের জ্বালা-যন্ত্রনার কারনে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাও করেন। কিন্তু চিকিৎসার কোনো সুফল পাননি তিনি। ২০০৭ সালে দিনের বেলায় হটাৎ করে তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। কিছুক্ষন সে আর কিছুই দেখতে পাননা। এই ঘটনার পর আবার বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও তার চোখের দৃষ্টি ফিরে পায়নি। চোখের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে অনেক টাকা ধার-দেনা করেও কোন কাজই হয়নি। সাইদুরের মতে তার চোখের রগ মরে গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। কোন কোন ডাক্তার বলেছে উন্নত চিকিৎসা নিলে তার চোখের দৃষ্টি আবারও ফিরে পেতে পারে। কানড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, অসুখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সাইদুর সরকারি খাস জায়গায় ভাঙ্গা-চুড়া বেড়ার ঘরে বাস করছে খুবই কষ্টে। তার চোখের দৃষ্টি হারানোর পর থেকে কোনই কাজকর্ম করতে পারেনা। তার বড় ছেলে তামিম (১২) ও মেঝ ছেলে তারেক (১০) পড়াশুনা বাদ দিয়ে বাধ্য হয়ে মুদি দোকানে কাজ করছে। তার এই দু-শিশু পুত্র কাজ করে যে, টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চলে না। সাইদুর দুঃখ করে বলে অনেকের সংসার সচ্ছল থাকলেও তারা সরকারি নানান সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখন প্রতিবন্ধী। তারপরেও স্ত্রীর মাতৃকালীন ভাতা ছাড়া আর অন্য কোন সরকারি সাহায্য আমরা পাচ্ছিনা। সমাজ সেবা অফিসে অনেকবার গিয়েছি কিন্তু আমাদেরকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরকে আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বললেও তার ব্যবস্থা করে দেওয়া কথা বলেছে কিন্তু কিছুই করে দেয়নি। এই প্রতিবন্ধী দম্পত্তির সাক্ষাতকার নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন ক্ষোভের সাথে বলেন সরকার মানুষকে এত সাহায্য সহযোগীতা করছে। অথচ এই অসহায় পরিবারটির প্রতি কেউ সু-দৃষ্টি দিচ্ছেনা। কাহালু সদর ইউ পি চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক পি এম বেলাল হোসেন জানান, সাইদুরের স্ত্রীর মাতৃকালীন ভাতা করে দেওয়া হয়েছে। আরো কোন সুযোগ আসলে তাকে সহযোগীতা করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ আরাফাত রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, এই লোকটির বিষয়ে কেউ আমাকে কোন দিন বলেনি। আগামীতে এই ধরনের লোকদেরকেই আমরা বেশী সাহায্য সহযোগীতা করবো।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন