বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে শিশু ধর্ষণের অপবাদে এক ইটভাটা শ্রমিক সরদারকে আটকে রেখে মারধর ও লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে টাউট বাটপারেরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুজাবাদ দহপাড়া গ্রামে।
জানাগেছে, কাহালু উপজেলার চকবন্যা গ্রামের দিনমজুর রব্বানী তার স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যা সহ গত আড়াই বছর যাবত শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদ দহপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব রমজান আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছে। রব্বানী একজন ইটভাটা শ্রমিক। বর্তমানে সুজাবাদ এলাকায় এআরবি ইটভাটায় কর্মরত। সেই সুবাদে ওই ইটভাটার শ্রমিক সরদার লাল মিয়ার সাথে রব্বানী ও তার পরিবারের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে।
রব্বানী ও তার স্ত্রী লাভলী বেগম জানান, লাল মিয়ার সাথে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক। এই সম্পর্কের জের ধরে লাল মিয়া তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করে এবং টাকা পয়শাও লেনদেন হয়। শনিবার দুপুরে লাল মিয়া তাদের বাড়িতে এলে অপর ভাড়াটিয়া চায়না বেগম বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে তাদের ১২ বছর বয়সী শিশু কণ্যার সাথে লাল মিয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হৈচৈ শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক ইটভাটা ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রমজান আলী ও তার ছেলে রেজওয়ান হোসেন মোফা, ইটভাটা ব্যবসায়ী উজ্জল, জাহাঙ্গীর, বেতগাড়ীর হযরত আলী সহ বেশ কয়েকজন এসে শ্রমিক সরদার লাল মিয়া, রব্বানী ও তার স্ত্রী লাভলী বেগমকে বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চুক্তি করে লাল মিয়াকে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে তাদের ভয়-ভীতিতে ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
লাল মিয়া জানান, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে আটকে রেখে মারপিট করে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নগদ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৩ হাজার ইটের ডিও নিয়ে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে তাদের ভয়-ভীতিতে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বাড়ির মালিক আলহাজ্ব রমজান আলী জানান, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না। আর যেটা হয়েছে সেটা মিমাংসা হয়ে গেছে।
ইটভাটা ব্যবসায়ী উজ্জল জানান, টাকা পয়শার বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। সে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরপরই লাল মিয়া চলে যায়।
এমতাবস্থায় এঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন