বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটে নাটাবাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসিয়েছে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা। তবে বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসিয়ে ওই আওয়ামীলীগ নেতা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও খেলাধুলা সহ শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ।
জানাগেছে, গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামে ১৯১৮ সালে ৩৩শতক জায়গায় নাটাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৭২ সালে এক একর ৮৭শতক জায়গায় নাটাবাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ওই বিদ্যালয় দুটির উত্তর পাশে ৮শতক জায়গা নাটাবাড়ী হাটের নামে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। পহেলা বৈশাখ থেকে ওই হাটটি ২য় দফায় ইজারা নিয়েছেন গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, তার ভাই আব্দুল বারিক, নজরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। কিন্তু তারা হাটের নির্ধারিত জায়গায় হাট না বসিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসিয়েছেন। প্রতি রবিবার ও বৃহিস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় হাটের কেনা-বেচা। হাটের দোকানিরা বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে ও শ্রেণী কক্ষের সামনে দিয়ে পসরা সাজিয়ে বসে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও খেলাধুলা সহ শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া হাটে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের হৈচৈর কারনে এক ঘন্টা আগেই বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয় কর্তৃপক্ষের।
বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট প্রধান হাসান রেজা, মনির হোসেন ও আফরোজা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট এবং খড় শুকানোর কারনে আমরা লেখাধুলা করতে পারি না। এছাড়া শ্রেণী কক্ষের সামনে দিয়ে দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসায় আমরা ক্লাস থেকেও বের হতে পারি না। হাটের হৈচৈর কারনে আমাদের লেখাপড়া সহ শিক্ষার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, হাটের জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকলেও ইজারাদার বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসিয়েছে। একারনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও খেলাধুলা সহ বিভিন্নভাবে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হৈচৈর কারনে ছাত্র-ছাত্রীরা আগেই বাড়ীতে চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে এক ঘন্টা আগেই বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়।
তবে হাটের ইজারাদার আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে হাটের নির্ধারিত জায়গা থাকলেও রাস্তার কারনে সেখানে হাট বসানো সম্ভব হয় না। তাই আগে থেকেই বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসছে। একারনে বিদ্যালয়ে কিছু অনুদান দেওয়া হয়। তবে বিকাল ৪টার পর হাট বসলেও বর্তমানে ধান কাটার মৌসুমে আগে থেকেই হাট বসছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ্ জানান, বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসানোর কোন নিয়ম নাই। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন