বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে দিনেদুপুরে ডিস সংযোগের তার চুরির সময় হাতেনাতে পিকআপ ভ্যান সহ দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার বিকালে খানপুর ইউনিয়নের দড়িখাগা গ্রামে এঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলো- মির্জাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে পিকআপ ভ্যান চালক রিমন মিয়া (২২) ও ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০)।

স্থানীয়রা জানান, ধুনট উপজেলার স্মার্ট মাল্টিমিডিয়া ক্যাবল অপারেটর শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দড়িখাগা, শৈল্যাপাড়া ও চৌবাড়ীয়া গ্রামে ১৫০টি পরিবারে ডিস সংযোগ প্রদান করে। কিন্তু ওই সকল গ্রামে ডিস সংযোগ প্রদান করায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই ক্যাবল অপারেটরের মালিক মুকুল হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত সোমবার বিকালে ওই ক্যাবল অপারেটরের ধুনট-শেরপুর সড়কের বথুয়াবাড়ী থেকে শালফা এবং চৌবাড়ীয়া এলাকার ডিস সংযোগের মেইল লাইনের ৭ কিলোমিটার তার দিনেদুপুরে কেটে নিয়ে যায়।

বুধবার বিকালে আবারও ১৫/২০জন যুবক একটি নম্বরবিহীন পিকআপ ভ্যানে লোহার রড ও হাসুয়া নিয়ে খানপুর ইউনিয়নের দড়িখাগা গ্রামে ওই ক্যাবল অপারেটর ডিস সংযোগের তার কেটে নিতে থাকে। এসময় গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে দুই যুবককে আটক করলেও অন্য যুবকেরা পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ওমর আলী বলেন, একটি পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেল যোগে ১৫/২০জন যুবক লোহার রড ও হাসুয়া নিয়ে দড়িখাগা গ্রামে ডিস সংযোগের তার কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় গ্রামবাসী তাদেরকে ধাওয়া করে একটি নম্বরবিহীন পিকআপ ভ্যান সহ চালক রিমন মিয়া ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

এবিষয়ে ধুনটের স্মার্ট মাল্টিমিডিয়া ক্যাবল অপারেটরের মালিক মুকুল হোসেন জানান, ওই সকল গ্রামে ডিস সংযোগ দেওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত একটি প্রভাবশালী গ্রুপ তার কাছে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তাদেরকে চাঁদা না দেওয়ায় দিনেদুপুরে ওই গ্রুপটি ১ লাখ টাকামূল্যের ৭ কিলোমিটার ডিসের তার কেটে নিয়ে গেছে। তারা আবারও ডিস সংযোগের তার চুরি করতে আসলে স্থানীয় লোকজন দুই যুবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
এবিষয়ে ঘটনাস্থলে শেরপুর থানার এসআই শামিম হোসেন বলেন, ডিস সংযোগের তার চুরির অভিযোগে জনতার হাতে আটককৃত দুই যুবক সহ পিকআপ ভ্যানটি থানায় নিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টি পরবর্তীতে খতিয়ে দেখা হবে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বুলবুল আহমেদ জানান, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন