বগুড়া সংবাদ ডটকম ( রশিদুর রহমান রানা, শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চলকর গলা কেটে হত্যার কুল কিনারা করতে পারছে না পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জরিতদের সনাক্ত করা যায়নি এখনও। তবে হত্যার নেপথ্য মাদক ব্যবসা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। নিহত ৩ জনের পরিচয় পাওয়ার পর গতমঙ্গল বার অপরজনের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তিনি হচ্ছে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার ছামছ উদ্দিনের ছেলে খবির উদ্দিন। হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী পুরুষ সহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করতে রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি নিশারুল আরিফ (ক্রাইম) মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানায়, সোমবার দুপুরে আটমুল ইউনিয়নের কাঠগাড়া চকপাড়া আছির উদ্দিনের পুত্র সাহাবুল ইসলাম শাবলু (৩৫) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের পুত্র জাকারিয়া (৩২), জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পুনুট (পাঁচ পাইকা) গ্রামের আজার আলীর ছেলে মোঃ হেলাল(৩২), জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার ছামছ উদ্দিনের ছেলে খবির উদ্দিন কে রবিবার রাতে কোন একসময় উপজেলা আটমুল ইউনিয়নের ডাবাইর গ্রামের পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেত্রে গলা কেটে হত্যা করে যায় দূর্বত্তরা।

এর পর থেকে তথ্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশের র‌্যাব, ডিবি, পিবিআই, সিআইডি, স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ সহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা। সরজমিনে কালাই থানার ঐ এলাকায় গেলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায় নিহতের মধ্যে কালাই উপজেলার পাঁচপাইকা গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে হেলাল মাদকাসক্ত হওয়ার কাণে দুই বছর আগে তার স্ত্রী তাকে তালাক করে চলে যায়।

এরপর তাকে স্বাভাবিক জীবনের ফিরিয়ে আনার জন্য এক বছর আগে পরিবারের লোকজনকে পুলিশে দেয়। জামিনে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন ভাল থাকার পর আবারো সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। আরেক নিহত খবির উদ্দিনও মাদক সেবনের কারণে দেড় বছর আগে তার স্ত্রী তাকে তালাক করে বাপের বাড়ীতে চলে যায়। দুজনের বাড়ি শিবগঞ্জ থানার পাশে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার এলাকার হলেও তাদের উঠাবসা ছিল শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইয়ের পুকুর বাজারে।

মাদক ব্যবসা নিয়ে কয়েকদিন আগে নিহত জাকারিয়ার সঙ্গে হেলালের মারামারির ঘটনা ঘটে। নিহত জাকারিয়ার মাতা জাহানারা বেগম জানান তার ছেলে প্রায় রাতে বাড়ি ফিরত এবং গত কিছুদিন আগে তার একটি মোবাইল ফোন পার্শ্ববর্তী গ্রামের শাহিনের কাছে আইপিল খেলা কেন্দ্র করে বন্ধক রাখে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসতে গেলে একই গ্রামের আলাল ও উজ্জল তাকে মারধর করে। নিহত ৪ ব্যক্তির পরিবার জানায় তারা সবাই নেশা করত। এলাকাবাসির সাথে কথা বললে অনেকেই মনে করেন মাদক ছাড়াও এই ৪ যুবক হত্যাকান্ডের পিছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে।

আটমুল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাফ্ফ হোসেন বলেন, ভায়েরপুকুর হলো মাদক সেবন ও বিক্রির আস্তানা। তিনি আরো বলেন এলাকার বামনিয়া গ্রামের নিশানা উড়িয়ে মাদক বিক্রি হতো। যেখানে এই নেশানা উড়ানো থাকতো সবাই জানতো সেখানে মাদক পাওয়া যায়। এদিকে সোমবার ধানক্ষেত থেকে ৪টি লাশ উদ্ধার এর ঘটনায় বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিলকে প্রধান করে গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক অপারেশন জাহিদ হোসেন মন্ডল জানান তিনটি বিষয় সামনে নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

বিশেষ করে মাদক নিয়ে বিরোধে এ হত্যা কান্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে রুবেল হোসেন, তার স্ত্রী নাজনীন বেগম, এবং তার মেয়ে নাতিশা খাতুন, আফছার আলীর ছেলে আব্দুল হালিম প্রামানিক, চন্দ্রনপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বুলবুল ইসলাম, এবং আটমু ইউনিয়নের কুলুপাড়া গ্রামের মোবাইল ব্যাবসায়ী লিটন সরকারকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদ করা হবে। তিনি আরোও বলেন লাশ গুলোকে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ৪টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত শাবলুর পিতা আছির উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন