বগুড়া সংবাদ ডটকম (সাগর খান, আদমদীঘি প্রতিনিধি ঃ) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই পুরো দমে শুরু হওয়ার পূর্বেই বৈরী আবহাওয়া ও দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে ইরি-বোরো আধা পাকা ধান পানিতে লুটিয়ে পড়ে মাঠে ধান বিছানার মত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে কৃষকেরা।

প্রায় প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি ও পড়ে যাওয়া ধান কাটার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব শ্রমিকরা আসছে বৈরি আবহাওয়া ও মাঠে পড়ে থাকা ধান দেখে শ্রমিকরা ধান কাটতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এতে করে মহা বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও কৃষকে দিতে হচ্ছে দ্বিগুন মূল্য। ঝড়ে ধান পড়ে যাওয়ার কারণে বিঘা প্রতি ৪-৫ মন হারে ধানের ফলন কম হবে বলে আশংকা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে বৈরি আবহাওয়ার কারণে উপজেলা প্রায় মাঠের ধান শুয়ে পড়েছে। কৃষকদের বুক ভরা আশা কয়েকদিন পর মাঠের ফসল ঘরে তোলবে কিন্তু কৃষকদের সেই আশাই যেন গুড়ে বালি হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরি আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টি।

এতে করে চলতি মৌসুমে ঝড় বৃষ্টির কারণে এলাকার কৃষকদের এক চোখে সোনালী স্বপ্ন আর অন্য চোখে আতংকের ছাপ দেখা দিয়েছে। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৪শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতি বছর আগাম বোরো ধান বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কাটা মাড়াই শুরু হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তেমন একটা ক্ষতি হবে না কৃষকদের।

উপজেলার কুসুম্বী গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, সে ৬ বিঘা জমিতে স্থানীয় জিরাশাইল জাতের ধানের আবাদ করেছে, বাতাসের কারণে ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পড়ে যাওয়া ধান গাছ পানিতে ভাসছে। এতে করে প্রতি বিঘায় ৫/৬ মণ হারে ধানের ফলন কম হওয়ার আশংকা করছেন এলাকার কৃষকরা। বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেকে আবার আধা পাকা ধানই কেটে ঘরে তুলছেন। তিনি আরোও জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া খুব একটা ভালো যাচ্ছে না আর এই আবহাওয়ার কারণেই ধান কাটা শ্রমিক বেশি দিন থাকছে না। তিন বেলা খাবার দিয়ে জন প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা দিয়েও দিন মজুর লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কিছু পরিমান জমিতে বোরো ধান হেলে পড়েছে। এখন বোরো ধান পাকা ও শক্ত অবস্থায় আছে। আশা করা যায় ফলনের তেমন কোন প্রভাব পড়বে না, তবে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে অতি সত্ত্বর তারা যেন ধান কেটে ঘরে তোলে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন