বগুড়া সংবদ ডটকম  (সাগর খান, আদমদীঘি প্রতিনিধি) :  মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের শালগ্রাম সরদার পাড়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ নিহতের স্ত্রী সাইমা বেগম কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এদিকে, স্ত্রী স্বামীকে খুন করেছে সকালে এই খবর জানাজানি হবার পর ওই গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ খুনি হিসাবে অভিযুক্ত স্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাতে থাকে। কিন্তু পুলিশী বাধার কারনে না দেখেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। শুধু উৎসুক জনতাই নয়; পুলিশ সাংবাদিকদেরও ওই মহিলার ছবি তুলতে বাধা দেয়।

পারিবারীক ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে এখলাছ উদ্দিন বিপ্লবের (৩২) এর সাথে একই উপজেলার সান্তাহার পৌঁওতা গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে সাইমা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ৮/৯ বছর পুর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারীক কলহ শুরু হয়। স্ত্রী সাইমা বেগম পরিবারের সাথে থাকতে অনিহা প্রকাশ করে।

বাধ্য হয়ে ট্রাক চালক স্বামী বিপ্লব স্ত্রীকে নিয়ে কখনো সান্তাহার শহরে কখনো আদমদীঘি উপজেলা শহরের একাধিক স্থানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। গত ৭/৮ মাস পুর্বে বিপ্লবের বাবা মারা গেলে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। কিন্তু স্ত্রী সাইমা এতে ঘোর আপত্তি জানাতে থাকে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটতো। নিহত বিপ্লবের ছোট ভাই বাধন হোসেন জানান, তার বড় ভাই এক ছেলে সন্তানের জনক বিপ্লব খুব নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই ভাবি ভাইকে নানা ভাবে নির্যাতন করতো।

তিনি আরো বলেন, শবে বরাতের মিলাদ ও তোবারক বিতরণ শেষে রাত দুইটার দিকে বাড়িতে ফিরি। ফিরে দেখতে পাই ভাইয়ের শয়ন কক্ষের দরজায় বাহির থেকে শিকল তুলে দিয়ে ভাবি বারান্দায় ঘুমাচ্ছে। এর ঘন্টা খানেক পর ভাবির চিৎকার শুনি। তিনি ”কে কোথায় আছো সানজিতের বাবা আর নাই” বলে চিৎকার করছে। চিৎকার শুনে আমরা নিজ নিজ ঘড় থেকে বের হয়ে ভাইকে বিছানায় শোয়া ও অচেতন অবস্থায় দেখি। পরে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানায়।

পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে মৃত দেহের বিভিন্ন স্থানে মারপিট ও গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে জানান, বিপ্লবকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বুধবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া মর্গে পাঠিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে নিহতের স্ত্রী সাইমা বেগমকে। এ রিপোর্ট পাঠানো সময় পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন