বগুড়া সংবাদ ডট কম ( নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি মো: ফিরোজ কামাল ফারুক)ঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে বৈরি আবহাওয়া আর ঝড়-শিলাবৃষ্টির কারনে মাঠের উঠতি পাকা ধান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। অন্যদিকে ধান কাটা শ্রমিক সংকট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠের পাকা বোরো ধান শুয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয় হতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে একটি পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২০ হাজার ৪৪৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান রোপনের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কোন রোগ বালাই দেখা যায়নি। এছাড়া কৃষি অফিসের তৎপরাতা আর কৃষকের সচেতনতার কারনে ধান খুব ভাল হয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক জমির পাকা ধানগাছ নুয়ে পড়েছে।
উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ খুব ভাল হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমি থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। ধানের ক্ষেতে পানি থাকায় শ্রমিকরা ধান কাটতে মাঠে নামতে পারছে না। বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। কাথম গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে পানি জমে থাকায় ধানেও পানি লাগছে। শেষমেশ কতটা ধান থাকবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক বলেন, ঝড় বৃষ্টিতে বেশকিছু পাকা-অধাপাকা ধান শুয়ে পড়েছে। এরমধ্যে কৃষকরা পাকা ধান কাটা শুরু করেছে। শতকরা ৮০ভাগ ধান পেকে গেলে দ্রুত কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ প্রাকৃতিক দূর্যোগে পুরো ধান নষ্ট না হয় এজন্য আগাম সর্তকতা হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন