বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) ঃ  বগুড়ার চন্দনবাইশা-চেলোপাড়া সড়কটির পাঁকা কংক্রিট উঠে গিয়ে যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বগুড়ার সদরের চেলোপাড়া হতে সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা সড়কের সংস্কার কাজ বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি জড়াজীর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। অভিযোগ আছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ বেশ কয়েকবার মেরামতের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার কারণে তা ব্যর্থ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজিতে জনদুভোর্গ চরমে পৌঁছেছে। অবিলম্বে সংস্কারের জন্য সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুু-দৃষ্টিপাত কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার এ ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থানে পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় হাজারো গর্ত। চন্দনবাইশা, গোলাবাড়ি, কড়িতলা এলাকার যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই করছে যানচলাচল। এলাকাবাসী জানায় সড়কটি বিএনপি সরকারের আমলে সম্প্রসারণ করণ করা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছরে এ রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। বছরের পর বছরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় এটি যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুঘর্টনা। আহত হচ্ছে যাত্রীসাধারণ। বিকল হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংস। আধা ঘন্টার রাস্তায় সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। নুরুল ইসলাম বাটু , জহুরুল ইসলাম ও নাম না জানা আরও কয়েকজন সিএনজি চালক বলেন, বগুড়া চেলোপাড়া থেকে গোলাবাড়ি ১৮কিলোমিটারের প্রায় তৃতীয়াংশ রাস্তার পাঁকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সদরের নাটাইপাড়া চেক পোস্ট মোর হতে, কইপাড়া ও সাবগ্রাম এবং গাবতলীর জিগাতলা, পাঁচমাইল, ছয়মাইল ও গোলাবাড়ি, দড়িপাড়া শিমুলতলা ও সারিয়াকান্দির আংশিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়রা আরও জানান, যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহৃত পাথর বহণকারির মাত্রাত্রিক্ত মালবহন করায় রাস্তার এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁন আকান্দ সহ অনেকে বলেন, রাস্তাটি যানচলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কৃষি উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছি আমরা। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের কাছে জড়ালো দাবি জানান তারা। মোহাম্মাদ আলী সহ কয়েকজন কলেজ পড়–য়া ছাত্র বলেন, রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থী ও কৃষিজীবি মানুষদের উত্তরাত্তর ভেবে রাস্তাটি দ্রুত মেরামতে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসতে একান্তভাবে কাম্য। তাজিরন বেগম নামে একজন মহিলা বলেন, গর্ভবতি মহিলা ও মুমূর্ষ রোগীকে জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে অনেক সময় লাগে। এতে অনেকে রাস্তার মধ্যে মরণাবস্থা হয়ে পড়ে। গাড়িতে চড়লে মাথা ঘুরপাক খেতে হয়। এদিকে রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার কাজ করা হলে পূণরায় ধুনটের চিকাশী, বড়িয়া, ঝিনাই, সাতবেকীর মত অনেক এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হবে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন