বগুড়া সংবাদ ডট কম (কাহালু প্রতিনিধি এম এ মতিন)ঃ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, চাপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, যশোর ও বগুড়া জেলার শুধুমাত্র কাহালু উপজেলায় এই প্রথম শুরু হয়েছে ব্রি ধান-৮১ এর চাষ। ইরান থেকে সংগৃহীত অসড়ষ-৩ এর সাথে ব্রি ধান২৮ এর সংকরায়ণ করে বংশানুক্রম সিলেকশান এবং পরবর্তীতে শীষ থেকে সারি পদ্ধতির মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটি বোরো মৌসুমী আবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৭ সালে ছাড়করণ হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নব-উদ্ভাবিত ব্রি ধান৮১ জাতের পাঁচ কেজি প্রজনন বীজ পাওয়া যায়। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ জাতটি সুগন্ধ ব্যতীত প্রিমিয়াম কোয়ালিটি ধানের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যামান। চালের আকার আকৃতি বাসমতির মত লম্বা ও চিকন থাকায় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। জাতটি দেশীয় বাজারে জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জাতটির জীবনকাল ১’শত ৪০ দিন হতে ১’শত ৪৫ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ৬ মেট্রিক টন হতে সাড়ে ৬ মেট্রিক টন। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকুল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ফলন সর্বোচ্চ ৮ মেট্রিক টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রি ধান৮১ জাতের বৈশিষ্ট্য * অঙ্গজ অবস্থায় গাছের আকার ও আকৃতি প্রায় ব্রি ধান২৮ এর মত তবে পাতা একটু মোটা,* গাছের কান্ড ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে শক্ত। এ জাতের ডিগপাতা সামান্য হেলানো,*ধানের রং খড়ের মত, ধানের আকৃতি লম্বা ও চিকিন এবং অগ্রভাগ সামন্য বাঁকানো,*পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১’শ সে.মি,*১ হাজার টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২০.৩ গ্রাম,*চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬.৫%,*চালে প্রোটিনের পরিমাণ ১০.৩%। চাষাবাদ পদ্ধতিঃ বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১৫ নভেম্বর হতে ৩০ নভেম্বর। চারার বয়স ৩৫ দিন হতে ৪০ দিন। বীজ উৎপাদনের জন্য প্রতি গুছিতে একটি চারা। রোপন দুরত্ব ২৫ সেমি গুণ ১৫ সেমি। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ থান চাষের উপযুক্ত। তবে ধানের উচ্চতা খাটো বিধায় নীচু জমিতেও চাষ করা যেতে পারে। বিঘা প্রতি ব্রি ধান৮১ চাষ করতে ৩০ কেজি ইউরিয়া, ১৩ কেজি টিএসপি, ২০ কেজি এমওপি, ১৫ কেজি জিপসাম ও ১.৫ দস্তা সার প্রয়োজন। ব্রি ধান-৮১ কাটার উপযুক্ত সময় ৮ এপ্রিল হতে ১৮ এপ্রিল। এ ব্যাপারে কাহালু উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আখেরুর রহমান এর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫টি জেলার মধ্যে বগুড়া জেলার মধ্যে আবার শুধু কাহালু উপজেলায় ব্রি ধান৮১ এর চাষ হচ্ছে, এটা তো কাহালু উপজেলা বাসীর জন্য আনন্দের সংবাদ। তিনি আরও বলেন, ব্রি ধান৮১ ফলন খুব ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধান সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা খুব উপকৃত হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন