বগুড়া সংবাদ ডট কম(শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান): বগুড়ার শাজাহানপুরে অবৈধ মাটি-বালি ব্যবসায়ীদের হাত থেকে আবাদী জমি, রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশ রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। মাটি-বালি পরিবহণের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ৪ জন ট্রাক মালিকের দেড় লক্ষ টাকা জরিমান করা হয়েছে।
মাটি ও বালি ব্যবসায়ীদের কারণে একের পর এক ধ্বংস হচ্ছে উর্বর কৃষি জমি। আর এসব মাটি-বালি পরিবহণে নিয়োজিত লক্কর-ঝক্কর ট্রাকের দাপাদাপিতে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি রাস্তা। বাড়ছে জনদুর্ভোগ, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে মাঠে নেমে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান। অপরদিকে শুধুমাত্র দু’একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে আইওয়াস না করে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ভান্ডারপাইকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অত্যন্ত গভীর (২০-২৫ ফুট) করে মাটি খননের অপরাধে ১টি এক্স-ক্লে ভেটর (মাটি খননের মেশিন), ১টি ট্রাক ও ১টি শ্যলো মেশিন আটক করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: কামরুজ্জামান। পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মাছুদুর রহমান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটার সরঞ্জামাদির মালিক মোকছেদুল ওরফে মতিনের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এরআগে বুধবার উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের দুরুলিয়া এলাকা থেকে মাটি পরিবহণকারী দু’টি ট্রাক আটক করেন ইউএনও। তাকে সহায়তা করেন শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম। পরে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ১৫(১) ধারা মোতাবেক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ট্রাক দু’টি মালিক সুজাবাদ দহপাড়া গ্রামের পরিতোষ চন্দ্র রায় ও সুজন মজুমদারের নিকট থেকে ৫০ হাজার এবং একই এলাকার রেজওয়ান হোসেনের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
পরিস্থিতি এমন যে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ভ্রমরকুটি গ্রামের রংমিস্ত্রি মন্তেজার রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫২) জানান, আদালতে বিচারাধিন তার ৩ একর ৯১ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরি করে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর-জুলুম করে গত দু’বছর যাবত দেদারসে মাটি-বালি বিক্রি করছে। গত বছর গভীর করে মাটি কাটতে গিয়ে আব্দুস সামাদ (৫০) নামের এক দিনমজুরের উপড় মাটি ধ্বসে পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারপর কিছুদিন মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও পুন:রায় শুরু হয় মাটি কাটা। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সরকারি রাস্তা হুমকির মুখে পড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ অভিযোগ করা সহাস পায় না। শুধু ভ্রমরকুটি গ্রামে নয়, উপজেলার সর্বত্রই চলছে মাটি-বালি ব্যবসায়ীদের এমন অনৈতিক কর্মকান্ড। এমতাবস্থায় প্রশাসন মাঠে নামায় শংকিত হয়ে পড়েছেন উপজেলার ভূমিদস্যুরা। পরিস্থিতি সামলাতে তারা নানা রকম ফঁন্দি-ফিকির আটছে। তবে অজ্ঞাত কারণে শুধুমাত্র আই ওয়াস করে প্রশাসন যেন মাঠ ছেড়ে চলে না যান এমনটিই দাবী করেছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, শুধুমাত্র দু’একটি স্থানে অভিযান চালালে হবে না। সমস্ত মাটি ও বালি পয়েন্টে অভিযান চালাতে হবে। তাহলেই শুধু খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন নয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানের আবাদি জমি, পরিবেশ এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্তের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
মাটি-বালি ব্যবাসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসানিক অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজ্জামান জানান, মাটি খননের ফলে যদি কৃষি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেটা বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। তাই এমন অপরাধের সংবাদ পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। অপরদিকে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করায় কর্তব্য পালনে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উপজেলাবাসি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন