বগুড়া সংবাদ ডট কম(বগুড়া প্রতিনিধি): বগুড়ায় মাত্র ৫০০ টাকার জন্য রোগীকে আটকে রেখে স্বজনদের বেধড়ক পিটিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ও ১নং ফাঁপোড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক এর পরিচালিত টিউলিপ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোগীর ৩ জন স্বজন আহত হয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহরের জলেশ্বরীতলা বনমালী দেব লেন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালে গাবতলী উপজেলার কলাকোপা তল্লাতলা গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে রিক্সা চালক মাসুদ রানা তার প্রসূতি স্ত্রীকে গত রোববার সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য ৬৫০০ টাকায় চুক্তি সম্পন্ন করে।বেলা পৌনে ১২ টায় রোগীকে রিলিজ করার সময় হাসপাতালের এমডি ইকরামুল হাসান টিটু আরো ৫০০ টাকা দাবী করলে রোগীর স্বজনরা অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের মেইন গেট বন্ধ করে প্রসূতীর ননদ বেদেনা খাতুন (নুপুর) তার স্বামী দিনমজুর সুমন এবং প্রসূতীর স্বামী মাসুদকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে নির্যাতনের ঘটনা শুনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যিনি নিজেকে ডাক্তার দাবীকারী যুবলীগ নেতা রাজ্জাকের শ্যালক ইকরামুল হাসান টিটুকে তাৎক্ষনিক আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। হাসপাতালের অপর এমডি রাজ্জাকের স্ত্রী জিনাত জাহান খানম (পাতা) ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কতিপয় সাংবাদিক নামধারীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান ওই প্রতিষ্ঠানটি ওয়াকফ এস্টেট’র সম্পত্তি যা অবৈধভাবে পৌর প্লান ছাড়াই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্মান করেছে। স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ী তাইফু ফেরদৌস তপু জানান, ওই হাসপাতালে প্রায়শই এধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এদিকে ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মোটা টাকার বিনিময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না করার জন্য রোগীর স্বজনদের ফাঁড়িতে নিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়। পরে পৌনে ৪টার দিকে রোগীর স্বজনদের নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেন বলে তারা সাংবাদিকদের জানান। এ বিষয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, রোগীর স্বজনরা অভিযোগ না দেয়ায় হাসপাতালের এমডি ইকরামুল হাসান টিটুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন