বগুড়ার যন্ত্র বিজ্ঞানী আমির এবার উদ্ভাবন করলেন “বজ্রপাত  থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কলাকৌশল”

এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পুরণ করেও বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব বলে তাঁর দাবী

বগুড়া সংবাদ ডটকম (মাহফুজ মন্ডল বগুড়া) : জ্বালানী বিহিন গাড়ি, স্লো মোশন টাইম মেশিনসহ ২৫টি মেশিনের এর উদ্ভাবক বগুড়ার যন্ত্র বিজ্ঞানী আমির হোসেন এবার তাঁর গবেষণায় এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা পৃথিবী জুড়ে চমক সৃষ্টি করবে, তা হলো বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাঁর উদ্ভাবিত নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার সাফল্য আনতে পারবে শতভাগ বলে বিজ্ঞানী আমির হোসেন দাবী করেন। এ প্রযুক্তিকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে আনতে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন যা তাঁর একার পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। জাতীয় ও আন্তার্জাতিকভাবে অথনৈতিক সহযোগিতা পেলে মানব জাতী ও দেশের জন্য তিনি সুফল বয়ে আনতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমির তাঁর গবেষণা থেকে যা পেয়েছেন তা হলো বজ্রপাতের উৎস শুরু হওয়ার মূহুর্তে সুউচ্চ টাওয়ারের মাধ্যমে সুপারহাই ফ্রিকোয়েন্সি মাইক্রোওয়েভ চুম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তিকে ধারণ করে আধুনিক প্রযুক্তিতে ক্যাপচার করে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পুরণ করার পরেও সারা বিশ্বে বিদ্যুৎ রপ্তানী করা সম্ভব বলেও তিনি দাবী করেন।

আমির তাঁর গবেষণায় পেয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার সুপরিকল্পিত সৃষ্টির মাঝে বজ্রপাত একটি অদৃশ্য শক্তির অসাধারণ ঘটনা। পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি অক্ষুন্ন রাখার জন্য বজ্রপাত প্রাকৃতিক চার্জ হিসাবে কাজ করে। প্রাকৃতিকভাবে বাতাস যখন জোরে ছুটে আসে তখন তার মধ্যে উৎক্ষেপ থাকে। এই উৎক্ষেপ থেকে মেঘের ওপরের অংশে পজিটিভ বিদ্যুৎ আর নীচের দিকে নেগেটিভ বিদ্যুৎ জমতে থাকে। এই দুই বিদ্যুৎবাহী মেঘ কাছাকাছি এলেই একটির পজিটিভ অন্যটির নেগেটিভ মিশে যায়। তখন যে আলোর ঝলক দেখা যায়। এইটাইকে আমরা বলি বিদ্যুৎ চমকানি। মেঘের নিচের স্তরে ঋণাতœক চার্জ থাকে যা পৃথিবী পৃষ্ঠের ধনাতœক চার্জে আকৃষ্ট হয় ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠ ও মেঘ স্তরের মধ্যে বিপুল পরিমান বিদ্যুৎ জমা হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠের উঁচু টাওয়ার, দালান-কোঠা, গাছ-পালা, সুপরিবাহী বস্তু পেলেই মেঘের ঋণাতœক চার্জ আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে মাটিতে পড়ে। দুই চার্জের মিলনে প্রচন্ড বিস্ফোরণ হয় এবং ভয়াবহ তাপ উৎপন্ন হয়। তাপ প্রায় ৩০-৫০ হাজার ডিগ্রী ফারেন হাইট হয়। বজ্রপাতের সাপটা দ্রুতগতিতে ভূপৃষ্ঠের দিকে ধাবিত হলে আশপাশের শীতল বাতাস প্রচন্ড তাপে হালকা হয়ে তীব্রগতিতে দূরে সরে যায়। ফলে প্রচন্ড শব্দ এবং বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের শব্দ শোনার আগে আলোর ঝলকানি দেখার কারণ হচ্ছে বায়ুতে আলোর বেগ সেকেন্ডে ৩ কোটি মিটার প্রায় এবং শব্দের বেগ মাত্র ৩৩০ মিটার, শব্দ শোনার সময়কে ৩৩০ দিয়ে গুণ করলে বজ্রপাতের উৎসের দুরত্ব বের করা যায়। সাধারণত ১৫০০ মিটার থেকে ১০,০০০ মিটার ওপরে বজ্রপাতের উৎস থাকে প্রতি মুহুর্তে আবহাওয়া মন্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার অঞ্চলে ১৮০০ কোটি বজ্র ঝড় জন্ম নেয়। প্রতি সেকেন্ডে ৬ শত বার বজ্রঝড় ঘটে এর মধ্যে মাত্র প্রায় একশোর মত বজ্রপাত পৃথিবীর সংস্পর্শে আসে। আবার জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিনত হওয়ার সময় বায়ু ও অন্য জলীয় কণার সাথে ঘর্ষণের ফলে ও এতে প্রচুর স্থির বৈদ্যুৎতিক চার্জের আধারের মত আচরন করে। ওই মুহুর্তে ওই বিদ্যুৎ ক্যাপচার এর সময় আমির হোসেন এর বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমান তড়িৎ শক্তিকে সংরক্ষণ করা যাবে। বজ্রপাতের তাপমাত্রা প্রায় ৪ (চার) হাজার ডিগ্রী ফারেনহাইট। ঘন্টায় প্রায় ২ লাখ ২ হাজার কিলোমিটার গতিবেগ থাকে। বজ্রপাতের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ১০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এতে ১০ কিলো থেকে এক কোটি পর্যন্ত ভোল্ট থাকে। বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে ৫০ থেকে ১৫০টি বজ্রপাত হয়। পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীর উপরিতলের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে এতে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও বেড়েছে ৪০ শতাংশ। দেশে বজ্রপাতকে সরকার আমির হোসেন এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিটি স্থাপনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করে কাজে লাগাতে পারলে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পুরুণ করে বিদেশে রপ্তানী করা যাবে ও প্রতি বৎসর বজ্রপাতে শত শত মানুষ অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। আমির হোসেন এর এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি কাজ করা যায় তাহলে বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ ক্যাপচার করা সম্ভব তার জন্য যা করতে হবে সারা বাংলাদেশে বিশেষ কিছু জায়গায় ভৌগলিক অবস্থান ঠিক করে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট সুউচ্চ টাওয়ার সেট করতে হবে এই টাওয়ার তৈরি হবে বিশেষ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ধাতু দিয়ে হাই টেকনোলজির কাজ করা থাকবে যখন বজ্রপাতের উৎস শুরু হতে যাচ্ছে ঠিক ওই মুহুর্ত থেকে তড়িৎ শক্তি ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যবহৃত হবে সুপার হাই ফ্রিকোয়েন্সি মাইক্রোওয়েভ চুম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে টেনে নিয়ে তড়িৎ শক্তি ধারন করে এর মাধ্যমে বিদ্যুৎতে পরিনিত করা। আগের আমলে মানুষ জাতি বন জঙ্গলে হিং¯্র জীব জন্তুর সাথে একত্রে বসবাস করতো তাই এই জীবজন্তুর হাত থেকে জীবন রক্ষার জন্য অস্ত্রপাতি বলতে তলোয়ার লাঠির মাথায় লোহার বল্লম সংযোগ করে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হতো। তখনকার আমলে মানুষের এত জ্ঞান বুদ্ধি ছিল না। এই লোহার পাত সংগ্রহ করা তাদের কাছে তখন দুর্লভ বস্তু ছিল। তারা ঐ সময়ে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হতো বিশেষ করে বর্ষাকালের জন্য। ওই সময় বৃষ্টির সঙ্গে এই বজ্রপাত যখন বিকট শব্দে ভূমিতে পতিত হত তখন মানুষগুলো মনে করে নিত সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য কিছু একটা দিলেন। বজ্রপাত ঠিক যে জায়গায় পতিত হতো ঠিক সেই জায়গায় সনাক্ত করার জন্য ফাঁকা মাঠে ওঁত পেতে দেখতো বজ্রপাতটির মূল অংশ কোন জায়গায় পতিত হলো, সেই জায়গাটির নির্দিষ্ট একটি মার্ক করে রাখত। বৃষ্টি থেমে গেলে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বজ্রপাতের পতিত নির্দিষ্ট সেই জায়গার মাটি খনন শুরু করে দিত। এরকম করে প্রায় ১০-১৫ ফিট মাটি খুঁড়তেই পেয়ে যেত প্রকৃতি প্রাপ্ত বজ্রপাতের চৌম্বক মন্ডলের তরল লোহার মহাসাগর থেকে অদৃশ্যভাবে উৎপন্ন হচ্ছে ডায়নামার মতো বিদ্যুৎ প্রবাহ আকারে পৃথিবীতে বজ্রপাত হিসাবে মাটিতে আছড়ে পড়ছে যা লোহা আকারে মাটির গভীর থেকে তুলে নিয়ে তখন জীবন রক্ষাকারী তলোয়ার বল্লম তীর ধনুক তৈরি করতো। মাটিতে থেকে যখন এ লোহা তোলা হত তখন মাপ হতো ১.৫ ইঞ্চি চওড়া / ৪-৬ ফুট লম্বা কিংবা ২ ইঞ্চি চওড়া / ৬ -৮ ফুট লম্বা জমানো লোহার পাত আকারে পাওয়া যেত। এখনো এই ধারা চালু আছে কিন্তু এখন মানুষ এ বুদ্ধি কাজে লাগায় না বা জানানেই না নিয়মকানুন পদ্ধতি। শুধু খনিজ থেকে এই তরল চুম্বক লোহার বিদ্যুৎ আকারে মাটিতে পড়ে তার সাপটাই মানুষের শরীরে লাগলে মানুষ মারা যায়। কিন্তু মূল তরল লোহার বিদ্যুৎটা কিন্তু মাটির নিচে চলে যায়। লোহা কিংবা বিভিন্ন খনিজ সম্পদ আকারে বিভিন্ন মেটাল হিসেবে আহরণ করে তুলে থাকি এখন আমরা।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন