বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন ধুনট প্রতিনিধি:) বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে বাঙ্গালী নদীর ঘাট দখল করে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে নদীর তীরবর্তী কৃষকের ফসলী জমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, নিমগাছী ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেয়ে বাঙ্গালী নদী। নদীতে বর্তমানে পানি না থাকায় জেগে উঠেছে বালু চর। কিন্তু গত কয়েক দিন যাবত স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে বাঙ্গালী নদীর ঘাট দখল করে অবাদে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করে আসছে। প্রতিট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। তবে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করায় ওই এলাকার শতাধিক কৃষকের ফসলী জমি বৃষ্টির পানিতে ধসে গিয়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এবিষয়ে ওই এলাকার আজিবর রহমান, মজনু মিয়া ও চাঁন মিয়া জানান, গত কয়েকদিন যাবত ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, আনিছুর রহমান, আপেল মাহমুদ, মাসুদ রানা ও বকুল মিয়া সহ ১০/১২ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ফরিদপুর গ্রামের বাঙ্গালী নদীর ঘাট দখল করে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করে আসছে। প্রতিদিন নদীর চর কেটে ১৫/২০ ট্রাক বালু বিক্রি করেছে। তবে নদীতে গ্রামের অনেক মানুষের জমি থাকলেও ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে চর কেটে বালু বিক্রি করছে। এতে নদীর তীরবর্তী ফসলী জমি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে এভাবে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করলে বর্ষা মৌসুমেই ওই সকল এলাকা সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তবে এবিষয়ে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
তবে বালু ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, নদীর ভিতরে আমাদের জমি রয়েছে। বর্তমানে নদীর চর জেগে ওঠায় জমির মালিকগনই বালু বিক্রি করছে। তবে বালু বিক্রির কারনে কারো ক্ষতি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ এরফান বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন