বগুড়া সংবাদ ডটকম (সাগর খান আদমদীঘি প্রতিনিধি ঃ) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের শীষ ইতিমধ্যে বের হতে শুরু করেছে। জমিতে শীষ দেখে কৃষকের এক চোখে যেমন ভাল ফলন হবে এমন বুক ভরা সোনালী স্বপ্ন, ঠিক তেমনি অন্য চোখে ফুটে উঠছে আতংকের ছাপ। মৌসুমের শুরুতে চারেদিকে বৃষ্টির সাথে পাল¬া দিয়ে শীল পড়ার কারণে কৃষকদের চোখে-মূখে আতংক দেখা দিয়েছে। তবে সামনে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার লক্ষ্য মাত্রার চাইতে ধানের অনেক বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিদরা।
জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অধিক ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে থাকা উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বক্ষনিক তদারকির কারণে ফলন ভালো হবে বলে মনে করছেন এলাকার কৃষকরা।

কিন্তু মৌসুমের শুরুতে কয়েক দিন ধরে কাল বৈশাখীর ছোবল, বাতাস ও বৃষ্টিপাতের সাথে পাল¬া দিয়ে শীল পড়ার কারনে চরম আতংকে রয়েছেন কৃষকরা। গত আমন মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার নিমাঞ্চল প¬াবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মূখে পরেন কৃষকরা। তারা বলছেন, যদি এবারও প্রাকৃতিক দূর্যোগে ধান নষ্ট হয় তাহলে এ ক্ষতি পোষানো খুবই মস্কিল হয়ে পরবে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান জানান, আমি চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। বর্তমানে ধানের অবস্থা দেখে খুব ভাল লাগলেও শিলা-বৃষ্টির কারনে চরম আতংকে রয়েছেন তিনি। উপজেলার করজবাড়ী গ্রামের কৃষক রহিমুদ্দিন জানান, গত আমন মৌসুমে প্রায় ৫ একর জমিতে আমন ধান রোপন করেছিলেন তিনি। কিন্তু গেল আমন মৌসুমে বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তার।

এবার ইরি-বোরোতেও প্রায় ৫ একর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। ধানের অবস্থা সার্বিক দিক দিয়ে ভাল থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর ধানের ফলন বেশি হবে এমন আশায় এক চোখে যেমন বুকভরা স্বপ্ন দেখছেন অন্য দিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে আরেক চোখে আতংকের ছাপ ভেসে উঠছে তার। চলতি মৌসুমে আর কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তাহলে গত আমন মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, উপজেলার ৬টি উইনিয়ন ও একটি পৌরসভায় লক্ষ্য মাত্রার চাইতে বেশি পরিমান জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিসের জোড়ালো তদারকি, কৃষকদের সঠিক পরিচর্যা এবং রোগ বালাইয়ের তেমন প্রকোপ না থাকায়, জমিতে আলোক ফাঁদ এবং বোরো ক্ষেতে কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে পোকা-মাঁকড় দমনে কৃষকদের উৎসাহিত করার কারণে চলবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অনেক বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি। তিনি আরোও জানান, ইতি মধ্যেই প্রায় ৫০% জমির ধানের শীষ বের হয়েছে। যদি আগামীতে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি না হয় তাহলে ব্যাপক লাভবান হবেন এ উপজেলার কৃষকরা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন