বগুড়া সংবাদ ডট কম(ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন):- বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী বাজারে ভূয়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে মাদ্রাসার জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে মাদ্রাসায় কোন কার্যক্রম ও ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও ভূয়া কমিটি তৈরী করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মাদ্রাসার জায়গা দখল করে দোকান ঘর বরাদ্দ দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ১৯৪২ সালে গোসাইবাড়ী গ্রামের নিপুছা আকন্দ নামের এক ব্যক্তি গোসাইবাড়ী বাজারে নিউ স্কিম জুনিয়র মাদ্রাসার নামে ১৩ শতক জমি এবং ২ বিঘা ফসলী জমি দান করেন। চুক্তি অনুযায়ি মাদ্রাসার কোন কার্যক্রম না থাকলে জমিদাতাগন ওই জায়গা ব্যবহার করতে পারবে। এই চুক্তিতে মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হলেও ২০০২ সালের দিকে মাদ্রসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মাদ্রাসার জায়গাটি দখলে নেয়। তারা ভূয়া কমিটি তৈরী করে মাদ্রাসার সামনে ৮টি দোকান ঘর নির্মান করে ৯৯ বছরের জন্য লিজ প্রদান করেছে। প্রতিমাসে প্রতিটি দোকানঘর থেকে ৮শত টাকা করে ভাড়া আদায় করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এছাড়া ওই মাদ্রাসটির নামে সরকারী সুযোগ সুবিধাও ভোগ করছে তারা। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪জন শিক্ষকের সরকারী বেতন ভাতা প্রদানের প্রক্রীয়াও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ টিনের ভাঙ্গা কয়েকটি কক্ষ পড়ে রয়েছে। কক্ষের ভিতরে কোন ব্রেঞ্চ-টেবিল না থাকলেও পড়ে রয়েছে কয়েকটি ফেন্সিডিলের বোতল। গাছ-গাছালী দিয়ে ভরে গেছে। দেখে মনে হয় যেন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গন। দীর্ঘদিন যাবত মাদ্রাসায় কোন কার্যক্রম না থাকায় এমন চিত্র ওই মাদ্রাসাটির। তারপরও একটি প্রভাবশালী মহল ওই মাদ্রাসার জায়গা দখল করতে আবারও কয়েকটি দোকানঘর নির্মানের চেষ্টা করছে। এবিষয়ে জমিদাতাগণ আদালতে মামলা দায়ের করায় গত এক মাস আগে প্রভাবশালী মহল নিউ স্কিম জুনিয়র মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে গোসাইবাড়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে নতুন সাইবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।
জমিদাতার ওয়ারিস ফরহাদ আকন্দ জানান, তার দাদা নিপুছা আকন্দ নিউ স্কিম জুনিয়র মাদ্রাসার নামে ১৩ শতক ও ২ বিঘা ফসলী জমি দান করেছে। চুক্তি ছিল মাদ্রাসা না থাকলে জমিদাতাগণ ওই জায়গা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই জায়গাটি দখল করতে সম্প্রতি গোসাইবাড়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে নতুন সাইবোর্ড লাগিয়ে আবারও নতুন করে দোকানঘর নির্মানের চেষ্টা করছে। আমরা গরীব মানুষ হওয়ায় প্রাভাবশালীরা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। এবিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধুনট ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সুলতান মাহমুদ বাদশা বলেন, আমি ৪ বছর যাবত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। মাদ্রাসার জায়গায় দোকান ঘরগুলো অনেক বছর আগে নির্মান করা হয়েছে। মাদ্রাসার নামে দাতাদের ২ বিঘা জমি লিজ দিয়ে এবং দোকান ঘরের ভাড়া রশিদ দিয়ে শিক্ষক আব্দুল হামিদ উত্তোলন করেন। এতে যে আয় হয় তা দিয়েই শিক্ষকদের বেতন এবং জমিদাতাদের মামলা চালাতে হচ্ছে। তবে মাদ্রসা ও শিক্ষক থাকালেও কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত ১২জন ছাত্র-ছাত্রী দিয়েই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে পড়াশোনার বিষয়ে শিক্ষকরাই ভাল বলতে পারবেন।
তবে এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপার ইউসুফ আলীর মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, মাদ্রাসা থাকলেও যদি কোন কার্যক্রম না থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন