বগুড়া সংবাদ ডট কম(ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন): বগুড়ার ধুনটে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হতে না পেরে পরিষদে তালা ঝুলিয়ে রেখে সচিবকে লাঞ্চিত করেছে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইউপি সদস্য সুলতানা জাহান। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে এঘটনা ঘটে। জানাগেছে, গত ১৮ মার্চ ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামল তালুকদার ব্রেন ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এরপর থেকেই ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূণ্য হয়ে পড়ে। তাই বিধি অনুযায়ি নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ (ওয়ার্ড সদস্য) উপ-নির্বাচন পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তাই ২০১৬ সালের ৯ আগষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামল তালুকদার পরিষদের সাধারন সভায় প্যানেল চেয়াম্যান নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিতরা হলেন ৬নং ওয়ার্ড সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকি, ১নং ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য শরিফা খাতুন। গত ১৮ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ইউপি সচিব ফরহাদ হোসেন ওই নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানের একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়। তবে এবিষয়ে ইউপি সদস্য সুলতানা জাহান সহ ৮জন ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ওই প্যানেল চেয়ারম্যান বাতিলের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা প্যানেল চেয়ারম্যানের তালিকার কাগজপত্র দেখে অনুমোদন দেন। ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর থেকেই ইউপি সদস্য সুলতানা জাহান প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। রবিবার সকাল ১০টায় আমি সহ প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ পরিষদে আসলে ইউপি সদস্য সুলতানা জাহান, আনোয়ার হোসেন, মনোতোষ ও আহসান হাবিব সহ তাদের লোকজন পরিষদের চাবি কেড়ে নিয়ে আমাকে লাঞ্চিত করে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তারা অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তালা ভেঙ্গে অফিস কক্ষ খোলা হয়েছে। একারনে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষদের হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সংরক্ষিত ৭,৮,৫নং ওয়ার্ড সদস্য সুলতানা জাহান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামল জীবদ্দশায় কোন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেনি। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ইউপি সচিব ফরহাদ হোসেন গোপনে তার পছন্দের ব্যক্তিদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। তবে এবিষয় নিয়ে পরিষদে কোন তালা লাগানো হয়নি। উল্টো তাদের লোকজনই আমাকে সহ ইউপি সদস্য আহসান হাবিবকে আহত করেছে। আমরা ধুনট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, পরিষদে তালা লাগানোর বিষয়টি শুনেছি। পরে তালা খুলতে বলা হয়েছে। তবে এবিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন